২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, কুমিল্লায় স্ত্রীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

পরকীয়া প্রেমের কারণে তাপস ও রাশেদের সহযোগিতায় আলো আক্তার স্বামীকে হত্যা করেন।

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, কুমিল্লায় স্ত্রীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. রাশেদকে পুলিশ কারাগারে নিয়ে যায়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Apr 2023, 06:10 PM

Updated : 13 Apr 2023, 12:15 PM

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার দায়ে এক নারীসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত। 

বুধবার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। 

পরিবহন শ্রমিক রেজাউল করিম ওরফে রাজা মিয়া হত্যার ৯ বছর পর এ রায় আসে বলে আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নজরুল ইসলাম জানান।

দণ্ডিতরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের প্রয়াত রেজাউল করিম ওরফে রাজা মিয়ার স্ত্রী আলো আক্তার (৩০), আলোর প্রেমিক একই গ্রামের তাপস চন্দ্র শীল (২৫) এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর গ্রামের মো. রাশেদ (২৮)। 

রায় ঘোষণার সময় আসামি রাশেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল। 

মামলার বরাতে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, রেজাউল করিম রাজা মিয়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার পুরাতন চরচাষি ছায়েদ আলী মুন্সী বাড়ির মৃত ছোয়াব আলী বেপারীর ছেলে। পরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি দাউদকান্দিতে বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

রাজা মিয়া উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

২০১৪ সালের ১৩ জুন দাউদকান্দির আউয়াল কমিশনারের বাড়ির উঠানে রাজা মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরদিন রাজা মিয়ার ভাই খাজা মিয়া বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ মামলার তদন্তের শুরুতে নিহতের স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন আলো আক্তার। পরকীয়া প্রেমের কারণে তাপস চন্দ্র শীল এবং রাশেদের সহযোগিতায় তিনি স্বামী রাজা মিয়াকে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তি দেন।

“তার স্বীকারোক্তির পর তাপস ও রাশেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়া হলে তারাও আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।” 

নজরুল আরও জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি থানার এসআই রঞ্জন কুমার ঘোষ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৫ সালের ২৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।