Published : 18 Nov 2025, 10:06 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরেন ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি সংসদের সংগঠক নাজনীন লিজা।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাকসু নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে অনিচ্ছুক। শাকসু নির্বাচন ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসু ‘নাটকের’ ধারাবাহিকতা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
“কয়েকদিন আগে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলনে তাদেরকে ‘উইনিং পার্টি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দুটোই বিতর্কিত হচ্ছে। কেননা শপথও পড়াচ্ছেন যারা, স্বঘোষিত ছাত্র নেতা দাবি করছেন যারা, লুকোচুরির রাজনীতির করার পর হুট করে এসে ওয়েলফেয়ার রাজনীতি করছেন, আবার আন্দোলনও করছেন তারা।
“তাদের এ আন্দোলনকে আমরা বিশ্বাস করতে পারি না, এটা কি আসলে নাটক নাকি বাস্তবতা। আপনি কোনো একটা প্রশাসনের সঙ্গে থেকে, লিয়াজোঁ করে কখনো তাদের সঙ্গে বিরোধিতা করতে পারেন না। এজন্য তাদের ক্ষমতা চর্চার আন্দোলনকে আমরা প্রহসন ছাড়া কিছুই মনে করি না।”
আন্দোলনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রনেতাদের ‘অপরাজনীত’ ও ‘যৌথ স্ক্রিপ্টের যাত্রাপালা’ বলে অভিহিত করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের এ নেতা।
শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন শুরু থেকে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করেছে অভিযোগ করে নাজনীন লিজা বলেন, “নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে কার্যত উদ্যোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
“কিছু সংখ্যক ছাত্র, যারা ক্যাম্পাসে নানাবিধ ক্ষমতা চর্চা সঙ্গে জড়িত, তারাই প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়া আন্দোলন নামে ‘নাটক মঞ্চায়িত’ করেন।”
শাকসু সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভায় ছাত্রশিবিরের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র মৈত্রীর ‘ওয়াক আউট’ করার পর থেকে ক্যাম্পাসে এ দুই সংগঠনের কর্মীদের কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাজনীন লিজা। পরে ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি সংসদের পক্ষে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।
দাবিগুলো হলো-
১. একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ‘উইনিং পার্টি’ ও একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ‘উইনিং পার্টি’র সবচেয়ে বড় নেতা হিসেবে ঘোষণা করার ‘প্রহসনমূলক’ বক্তব্যের জন্য উপাচার্যকে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. শাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য ক্যাম্পাসের সকল অংশীজনের সঙ্গে অবিলম্বে আলাপ করতে হবে।
৩. অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সকলের সঙ্গে কথা বলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকলের সমান সুবিধা বিবেচনা রেখে শাকসু আয়োজন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে আগামী ২৩ নভেম্বরে মধ্যে দাবিগুলো আমলে নিয়ে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানান ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি সংসদের সংগঠক জুবায়ের আহমেদ জুয়েল, প্রান্তিক দীপম এবং মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন বাস্তবায়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।”
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘উইনিং পার্টি’ বলা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আসলে সেখানে পুরো কথা বলতে পারিনি। বহুদিন পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হচ্ছে।
“তো যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিয়ে নির্বাচনকে উৎসবমুখর করে তুলবে, সেসব শিক্ষার্থীরাই ‘উইনিং পার্টি’। সে হিসেবে যারা দুই হাজার ভোট পাবে; তারাও ‘উইনিং পার্টি’, যারা চার হাজার ভোট পাবে তারাও ‘উইনিং পার্টি’। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে বলিনি। বলেছি পুরো শিক্ষার্থীদের।”
এর আগে রোববার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-শাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ; যেখানে ১৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।