Published : 24 Dec 2025, 11:51 AM
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ফাজিল স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় প্রকাশ্যে বই খুলে উত্তরপত্রে লেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ‘পিপুলিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে’ এ ঘটনা ঘটে। এই দিন ফাজিল প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ছিল।
বিষয়টি জানাজানির পর রাতে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের মত পিপুলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ফাজিল স্নাতক (অনার্স) প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা চলাকালে বই দেখে নকল করার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবরও আসে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও সুজন চন্দ্র রায় বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেনকে আহ্বায়ক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামীম ইকবাল ও আইসিটি অফিসার রিয়াজ উদ্দিনকে সদস্য করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার যেসব ভিডিও ছড়িয়েছে তার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে কি-না প্রশ্নের উত্তরে ইউএনও বলেন, “আইসিটি অফিসারকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে, এসব ভিডিও কিংবা ছবির সত্যতা খতিয়ে দেখার জন্য। আশা করছি, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে এর বিষয়ের সঠিক তথ্য পাব।”
এই বিষয়ে জানতে পিপুলিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। প্রথমে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো ভিডিও আমি এখনও দেখি নাই। মূলত আমারে ফাঁসানোর জন্য একটা প্লট সাজানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বলেন, “পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।”