Published : 14 May 2026, 04:21 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়। এতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে রাত ২টার দিকে একদল নারী শিক্ষার্থী উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে দায় স্বীকার করে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ; হেনস্তা প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও জরুরি হটলাইন চালু; ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার; নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ডাটাবেস ও পরিচয়পত্র ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি গেইটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কাঠামোগত ত্রুটি সাত দিনের মধ্যে সংস্কার এবং বিকল্প প্রবেশ পথও বন্ধের দাবি জানান তারা।
এর আগে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ, করতে হবে করতে হবে’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় তারা ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় জড়িতের ‘দৃশ্যমান বিচার’ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে রাতে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রক্টরের দায়িত্ব নয়; এটি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, “প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কীভাবে বলতে পারেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব তার নয়? এ ছাড়া তার দপ্তরে জমা পড়া হয়রানির অভিযোগগুলোরও কোনো সমাধান হয়নি।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়া নাওয়ার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রক্টরের মেয়াদকালে এখন পর্যন্ত দুটি খুন হয়েছে। তারপরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যা হয়েছে, তারপর আমরা আর তাকে এই পদে দেখতে চাই না।”
আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল সব ধরনের সোর্সিংয়ের মাধ্যমে আসামিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় দিয়ে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে।
পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।
জাবি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মামলা