নারায়ণগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে ধানের শীষের সমর্থকদের বাধার অভিযোগ
এ বিষয়ে মাকসুদের স্ত্রী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন।
মাকসুদের অভিযোগ, শুক্রবার বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় তার কর্মীদের বিলবোর্ড লাগাতে ও শহরে প্রচারপত্র বিলিতে ‘সন্ত্রাসী কায়দায় ‘ বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতেও গণসংযোগ করতে দিবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাকসুদের স্ত্রী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
অভিযোগে নার্গিস বলেন, ২৩ জানুয়ারি ভোরে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের লোকজন বাধা দেয় এবং মারমুখী আচরণ করে। এতে সেখানে বিলবোর্ড স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকাতেও গণসংযোগকালে একই প্রার্থীর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন নার্গিস।
“আমি পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসংযোগ করতে গেলে আমাকে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দিয়ে কর্মসূচি পন্ড করে দেয়। এবং সেখানে আর কোনোদিন গণসংযোগ করতে দিবে বলেও হুমকি দেয়”- অভিযোগে উল্লেখ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রী।
এদিকে শুক্রবার নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেওয়ার একটি ভিডিও-ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারের সময় রিকশায় বসা মো. সজীব নামে এক যুবক তার অনুসারীদের গণসংযোগ বন্ধ করে দিতে নির্দেশনা দিতে শোনা যায়।
এছাড়া বাধার মুখে এলাকা ছাড়ার সময় হুমায়ূন কবির নামে আরেক যুবক গাড়িতে বসা নার্গিস আক্তারকে হুমকি দিয়ে বলেন, “এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!”
এ বিষয়ে নার্গিস বলেন, “হুমায়ূন কবির বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সজীবও যুবদলের কর্মী। তারা দুজনই আবুল কালামের অনুসারী।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, “মাকসুদ হোসেন পতিত ফ্যাসিস্টের সহযোগী। তার প্রতি স্থানীয় মানুষের অনেক ক্ষোভ রয়েছে, সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু এই ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর কোনো যোগাযোগ নেই। এটা যারা করেছেন তা তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত জায়গা থেকে করেছেন।”
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানি সরকার বলেন, “আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। যদিও যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে তা আমার দায়িত্বে না। কিন্তু আমি বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অফিসিয়ালি জানিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা, সদর উপজেলার আংশিক এবং সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড ১১-২৭ নিয়ে গঠিত আসনটিতে আবুল কালাম তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। এবারও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তিনি।
অন্যদিকে, মাকসুদ হোসেন জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ছিলেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাকসুদ। পরে হাই কোর্ট থেকে তিনি জামিন পান।
