Published : 04 Dec 2025, 02:38 PM
সরকারি কর্মচারি আচরণবিধি পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (চলতি দায়িত্ব) স্বাক্ষরিত আলাদা চিঠিতে তাদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই শিক্ষকদের জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, উপজেলার নাগমুদ বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার, সহকারী শিক্ষক প্রিয়াংকা রাণী ভৌমিক, ফেরদৌসি বেগম, জয়পুরা এসআরএমএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুকবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষক নুরুন নাহার, মেহেদী হাসান ফরিদ ও মর্জিনা আক্তার।
আবুল বাশারকে দেওয়া শোকজপত্রে উল্লেখ করা হয়, “২০১১ (পরিমার্জিত সংস্করণ) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত আদেশ অমান্য করে আপনার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পরীক্ষা বর্জণের ঘোষণা দেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
“আপনি ১ ডিসেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত প্রেস ব্রিফিং করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২২ এর পরিপন্থী।
“আপনি ২ ডিসেম্বর ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন করেছেন, এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”
অন্যদিকে ৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় শিক্ষক মুকবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষক নুরুন নাহার, মেহেদী হাসান ফরিদ ও মর্জিনা আক্তারকে শোকজ করা হয়।
এছাড়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় শিক্ষক প্রিয়াংকা রাণী ভৌমিক ও ফেরদৌসি বেগমকে শোকজ করা হয়েছে।
তাদের দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এই শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারি আচরণ বিধিপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তারা ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন করেছেন। এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে দুইজন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নোটিশ হাতে পেলে তারা জবাব দিবেন।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী বলেন, “শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা করছেন। সরকারি আদেশ নির্দেশ অমান্যের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর কেনো সুপারিশ করা হবে না, ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্য লিখিত ব্যাখ্যা আমার কাছে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
দশম গ্রেডে বেতন দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষকের ‘লাগাতার’ কর্মবিরতি চলছে।
এই শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন গত ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি এবং ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবহিত করে।