Published : 24 Feb 2026, 05:25 PM
আওয়ামী লীগ নেতা ও ‘ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের’ জামিনের প্রতিবাদে বরিশালে দুটি আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম এবং অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন বলে জানান জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন।
তিনি বলেন, “গত সপ্তাহে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই যেসব মামলায় হাই কোর্ট, বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেছে; তাদের জামিন দিচ্ছে ওই দুটি আদালত। ফ্যাসিস্ট সরকারে যারা বড় বড় পদে ছিল তারা এসেও জামিন নিয়ে যাচ্ছেন।
“ফ্যাসিস্টরা যদি এমনভাবে ছাড়া পায়, বিভিন্নভাবে অফিস খোলার চেষ্টা করছে, এতে সরকার বিপদে পড়বে। এরা বুঝেশুনে আমাদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। এই কারণে তাদের সঙ্গে (বিচারক) আলাপ করেছিলাম। কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যত খারাপ। তাই আমরা আদালত বর্জন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।”
জেলা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন আহমেদ পান্না, সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি তারেক আল ইমরান।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা বলেন, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে সোমবার জামিন দিয়েছে। তারা দাবি করেন, এটা ‘অনৈতিক’। এ সময় তারা ওই দুই বিচারকের বদলি দাবি করেন।
আইনজীবী দুলাল মোল্লা বলেন, “অনেক রক্তের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার শুধুমাত্র দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। বিচার বিভাগের মধ্যে কিছু কলঙ্কিত আওয়ামী লীগের লোক, তারা চেয়ারে বসে অন্যায় কাজ করছে। হাই কোর্ট ও জজ কোর্ট যাদের জামিন দেয়নি। উনারা টাকার বিনিময়ে তাদের জামিন দিয়েছে।
“দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে। আমরা সরকার ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি করছি, অনতিবিলম্বে এদের বরিশাল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে তাদের রেকর্ড অনুযায়ী, কখন চাকরি পেয়েছে ও কোন পরিবারের সদস্য সব কিছু বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।”
মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, “বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার আসামিদের জামিন দেয় জেলা জজ। সেখানে উনারা জামিন দিয়েছেন বিনা কারণে। ফ্যাসিস্টদের জামিন দিচ্ছেন আর সাধারণ মানুষদের জেল হাজতে পাঠান তারা। এর প্রতিবাদ করেছি। এদের অপসারণ করা না পর্যন্ত আদালত বর্জন চলবে।”
মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম বলেন, “দুই আদালতের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হয়েছে। আইনজীবীদের বর্জনে আদালতে কোনো সমস্যা হয়নি।”