সিলেটে বিএনপির সমাবেশস্থল স্লোগানে মুখর, প্রস্তুত মঞ্চ

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিলেট ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Nov 2022, 06:51 AM
Updated : 19 Nov 2022, 06:51 AM

সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে; মঞ্চও প্রস্তুত। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেছেন।

শনিবার সকাল থেকে হাতে ব্যানার, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের দিকে আসতে শুরু করেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস বন্ধ থাকায় ভোর থেকে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও হেঁটে সমাবেশস্থলে এসেছেন অনেকে। তাছাড়া শুক্রবার রাতেই সমাবেশের মাঠে উপস্থিত হয়ে যান হাজারো নেতা-কর্মী।

সকাল ১০টায় সমাবেশস্থলে বিএনপি ও তার স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সেখানে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। মাঠে নেতা-কর্মীদের বিনামূল্যে পানি, খাবারসহ ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত মঞ্চের মাঝখানে বড় একটি চেয়ার রাখা হয়েছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জন্য। এ চেয়ারের দুই পাশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. মঈন খানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের চেয়ার রাখা হয়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘‘দুপুরের পর সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। তখন খালেদার জিয়ার চেয়ারটি ফাঁকা থাকবে। দলীয় চেয়ারপার্সনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক এই চেয়ার রাখা হয়েছে। মোট ৫৬ জন বক্তা সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।’’

বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানায়, সমাবেশের জন্য নির্মিত ২১০০ বর্গফুটের মঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন সমাবেশ শুরুর প্রহর গুণছেন মাঠে ও আশপাশে থাকা নেতা-কর্মীরা। ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের সভামঞ্চের পাশাপাশি ১২৫টি মাইকও লাগানো হয়েছে।

সমাবেশের মাঠ ছাড়াও সিলেট নগরজুড়ে সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। নগরীর প্রবেশ পথে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। নেতা-কর্মীদের রাত্রিযাপনের জন্য নির্মিত প্যান্ডেল ও ক্যাম্প সকালে খুলে ফেলা হয়েছে। মাঠ জুড়ে খাবারের প্লাস্টিকের প্লেট এলোমেলো ভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সকালে নগরীর মদিনামার্কেট, বাগবাড়ি, সুবিদবাজার, রিকাবিবাজার, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ঘুরে রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। মাঝে-মধ্যে কয়েকটি সিএনজিচালিত আটোরিকশা চলছে। বিএনপির নেতা-কর্মীসহ নগরীর বাসিন্দারা রিকশা বা হেঁটে চলাচল করছেন; গন্তব্যে যেতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে তাদের। গাড়ি না মেলায় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সকালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে।

নগরীতে সমাবেশস্থলের আশেপাশের অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি খাবারের দোকান আর ফার্মেসি খোলা রয়েছে।তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে আশেপাশে অনেকগুলো অস্থায়ী খাবারের দোকান বসেছে।

সমাবেশস্থলের আশে পাশের পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সতর্ক নজর রাখছে পুলিশ। পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি)-ও মাঠে নেমেছে; বিজিবিকেও টহল দিতে দেখা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘' সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি আমরা। ১৯টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। চারটি মোবাইল টিমও রয়েছে। এছাড়া নগরীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক