পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে ফুল নিয়ে মির্জা ফয়সল, দেলাওয়ার বললেন-‘আমি গর্বিত’
“আমরা যদি একজন আরেকজনের মতামতকে শ্রদ্ধা-সম্মান না করি তাহলে তো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো না।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাড়িতে ফুল নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন।
শুক্রবার দুপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসভবনে যান মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় তিনি দেলাওয়ার হোসেনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি গর্বিত।’
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার এমন উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন একটা গণতান্ত্রিক প্রসেস, এই গণতান্ত্রিক প্রসেসের একটা মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন, আর গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা।
“আমরা যদি একজন আরেকজনের মতামতকে শ্রদ্ধা-সম্মান না করি তাহলে তো আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো না।”
সেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এছাড়াও নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে মিষ্টি খাওয়ান দেলাওয়ার হোসেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিততে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র ভোটগ্রহণ হয়।
ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম ফলাফল ঘোষণা করেন।
সেখানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ভোটে মির্জা ফয়সল পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামের দেলাওয়ার হোসেনের বাক্সে জমা হয় ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
এছাড়াও এই আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।
সদ্য বিজয়ী সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ঠাকুরগাঁও ও দেশের স্বার্থে তার সমর্থক ও অনুসারীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ফয়সল আমিন বলেছেন, “তিনি (দেলাওয়ার হোসেন) কিন্তু বিপুল পরিমাণ ভোটও পেয়েছেন। এখন একটা বিশাল অংশ তার সঙ্গে আছে।
“এই বিজয় তাদের বাদ দিয়ে নয়, তারাও তো আমাদের মানুষ, তারাও এই এলাকার মানুষ। অতএব আমার ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করবো।”
এ সময় পরাজিত জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমি গর্ববোধ করি, বড়ভাই মির্জা ফয়সল আমিন নির্বাচিত হওয়ার পর আমার খোঁজখবর নিতে এসেছেন। পাশাপাশি আমার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। এজন্য উনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি মির্জা ফয়সল আমিনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেলাওয়ার বলেন, “এমনই রাজনৈতিক কালচার গড়ে ওঠা উচিত, নির্বাচন থাকবে, দল থাকবে, কিন্তু আমাদের পরস্পরের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ আচরণ থাকবে-পরিবেশ থাকবে। যেটার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। ফয়সাল ভাই আজ সেটাই করেছেন।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, “নির্বাচন শেষে বিজয়ী বিএনপি ও পরাজিত জাময়াত প্রার্থী একে অপরেরর সাথে কুশল বিনিময় করছেন, পাশাপাশি একে অপরকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। এটিই রাজনৈতিক সৌহার্দপূর্ণ আচরণ।”
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অব্যাহত থাকলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে করেন তিনি।
