Published : 19 Jan 2026, 11:18 AM
দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন। এত বছর পর হওয়া এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে যেমন উৎসাহ রয়েছে; তেমনি চলছে ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ।
আর ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনায় আছে কারা আসছেন দায়িত্বে। ক্যাম্পাসে পরিবহন, নিরাপত্তা, আবাসিক হলের খাবারসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তবে নীরব ভোটারদের উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
শাকসু নির্বাচনে মোট ২৩টি পদে ভোট হবে; আর পদ ভেদে ভোটের হিসাবও ভিন্ন হবে বলে ধারণা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে ভিপি পদে প্রার্থী চারজন।
এ ছাড়া ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজ বিভাগ ও অঞ্চলের প্রার্থী, প্যানেল পরিচয়, ক্যাম্পাসে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা, ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় অবস্থান এবং স্বেচ্ছাসেবী, ক্যারিয়ার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ভোট নির্ধারণে কাজ করবে বলে মনে করছে শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা প্যানেল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দিতে চান। তবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে কোনো একটি প্যানেলের সব প্রার্থী একসঙ্গে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের তথ্য মতে, ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৭০টি সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্যারিয়ার ও গবেষণাভিত্তিক সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০টি সংগঠন নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে কাজ করা ১৬টি সংগঠন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, শাবিপ্রবি’।
সাংস্কৃতিক চেতনা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশই এই জোটের মূল লক্ষ্য। সচেতন শিক্ষার্থীরা মনে করছেন এই সাংস্কৃতিক বলয় থেকেও শাকসুতে একাধিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারেন।
তবে এ জোটের পক্ষ থেকে ৬ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাকসু নির্বাচনে তারা কোনো দল, প্যানেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা নয় হাজার ৪২ জন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সর্বশেষ হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর আগে ১৯৯৩ সাল থেকে তিনবার শাকসু নির্বাচন হয়েছে। ২৮ বছর ধরে শাকসু অচল রয়েছে।
ভিপি পদে বসছেন কে
ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন পরবর্তী সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি আদায়ের কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ফলে সব মতের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তার ভাল বোঝপড়া রয়েছে।
তবে ইসি বরাবার স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করে পরে আবার অঙ্গীকারনামা দেওয়ায় তার ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করছেন কিছু শিক্ষার্থী। আবার শিক্ষার্থীদের কিছু অংশ মনে করছেন ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচন করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কিছু ভোট হারাতে পারেন।
অন্যদিকে, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংগঠন ‘স্পোর্টস সাস্ট’র পাবলিকেশন সেক্রেটারি। প্রায় চার বছর ধরে সংগঠনটিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির নেতারা। ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ এর প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির। তিনি জুলাই আন্দোলনে সিলেটের প্রথম আহত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে পরবর্তী সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সম্মুখ সারিতে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
আন্দোলন কেন্দ্রিক পরিচয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ফলে শিবিরের নিজস্ব নেতাকর্মী, সমর্থকের বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এ ছাড়া শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচন করার কারণেও ভোটের বড় একটি অংশ তিনি নেবেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুমিনুর রশিদ শুভ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন ‘ভয়েস ফর জাস্টিস’ এর আহ্বায়ক। জুলাই আন্দোলন চলাকালে মিছিলে তার এলাকায় (সিরাজগঞ্জ) আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার হাত ভেঙে আহত করেন। গত দেড় বছর ধরে তিনি ওই সংগঠনের অধীনে শিক্ষাবৃত্তি, ক্যাম্পাস ও খাল খনন, মশা নিধন কর্মসূচি, গাছে গাছে অর্কিড স্থাপন, ম্যারাথন আয়োজন ও বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা অংশের ভোট পেতেন বলে মনে করতেন অনেকে।
কিন্তু ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর সঙ্গে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করলে তিনি ‘অনলাইন ব্যাশিংয়ের’ শিকার হন এবং কিছু শিক্ষার্থী তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে বলে। এটি তার ভোটে প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে, সনাতন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদ’ এর এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সংগঠনটিতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী যুক্ত। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছরেও সনাতন ধর্মালম্বীরা বৈষম্যের শিকার। কেন্দ্রীয় কোনো উপাসনালয় না থাকায় এসব শিক্ষার্থীদের ইউসি ভবনের একটি ছোট কক্ষে উপাসনা করতে হয়। ফলে তাদের ধর্মীয় অধিকার যে প্রার্থী বা প্যানেল রক্ষা করবে, সে প্রার্থী বা প্যানেলকে ভোট দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীদের ভোট ভোটের সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন কিছু শিক্ষার্থী।
তবে সনাতনী শিক্ষার্থীদের এই দাবি ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল তাদের ইশতেহারে রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তিক চৌধুরী বলেন, “ধর্ম-বর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত মতামত ও নির্দিষ্ট আদর্শের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয় এমন প্রার্থীকে ভোট দেওয়াই সমীচীন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করে ক্যাম্পাসকে আগের মত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবে এমন প্রার্থীদের বর্তমানে প্রয়োজন। এমন প্রার্থীদের ভোট দেওয়া উচিত যারা নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুবিধা নিয়ে সোচ্চার এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে এতদিন কাজ করে এসেছে। প্রশাসনের সঙ্গে লিঁয়াজো করে নয়, বরং প্রশাসন থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এমন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত।”
জিএস পদে কার সম্ভাবনা
শাকসু নির্বাচনে দ্বিতীয় শীর্ষপদ সাধারণ সম্পাদক-জিএস প্রার্থী সাতজন। তারা হলেন- জুলাই অভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের শাবি শাখার সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব পলাশ বখতিয়ার, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মারুফ বিল্লাহ, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মুজাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের ‘বিদ্রোহী’ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুনায়েদ হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ট্র্যাকিং অ্যাপের উদ্ভাবক ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুর রহমান সিফাত এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রমজলিস বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুনায়েদ আহমদ।
এর মধ্যে ফয়সাল হোসেন জুলাই অভ্যূত্থানে সিলেট বিভাগে প্রথম এক দফার হুঁশিয়ারি দেন। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে অভ্যুত্থানের পরও সব আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন তিনি। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তার ভাল গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী মারুফ বিল্লাহ গত বছর দেড় বছর ধরে ফ্রি টিউশন সেবা, ইমার্জেন্সি মেডিসিন সার্ভিস প্রদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। এসবের কারণে ছাত্রদল ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটের একটা অংশ তার কাছে যাবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। তবে ‘বিদ্রোহীর’ কারণে ছাত্রদলের একটা অংশের ভোট হারাতে পারেন বলে জানান কয়েকজন নেতাকর্মী।
এভাবে বাকি জিএস প্রার্থীরাও শিক্ষার্থীদের কাছে সময়ে-অসময়ে নানাভাবে পাশে ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নিজস্ব অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জিএস প্রার্থী বেশি হওয়া তাদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হবে। যেটি শিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থীকে সুবিধা দেবে।
এজিএস হচ্ছেন কে
এজিএস পদে কেন্দ্রীয় সংসদে চারজন প্রার্থী। তারা হলেন- ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মো. শাকিল, সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেল থেকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং একই বিভাগের আতাহারুল ইসলাম রাহিন।
এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম জুলাই অভ্যূত্থানের সিলেটের সহসমন্বয়ক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক সংগঠন ‘সায়েন্স অ্যারেনা’র সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। কোর্স ইম্প্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু, সিলেটে অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া কমানো, ভার্সিটি গেইটে খাবারের অতিরিক্ত দামের সমাধানসহ নানা ক্যাম্পাস ইস্যুতে তিনি সমসময় সরব ছিলেন।
ক্যাম্পাসের সব আন্দোলন-সংগ্রামে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে জহির। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও এসব বিষয় ভোটের মাঠে তার পক্ষে ভালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. শাকিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিষয়ক সংগঠন ‘স্টুডেন্ট এইড সাস্ট’ এর সভাপতি। গত দেড় বছর ধরে তার এ সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর আয়োজনসহ নানা কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমের কারণে দলীয় ভোটের বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটা অংশ পাবেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া এজিএস পদে আরও দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন- অর্থনীতি বিভাগের হাফিজুর রহমান ও আতাহারুল ইসলাম রাহিন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভাগের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সে প্যানেল বা স্বতন্ত্র থেকে হোক। সে হিসেবে এ দুজন একই বিভাগের হওয়ায় তাদের মধ্যে বিভাগের ভোট ভাগাভাগি হবে।
একইসঙ্গে হাফিজ ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলে ভোট করায়, যেসব শিক্ষার্থীরা দলের বাইরে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়, সে সেসব শিক্ষার্থীদের ভোটও পাবে।
এ ছাড়া সম্পাদকীয় পদগুলোর মধ্যে ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাত্র দুজন প্রার্থী। ফলে এ পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী মো. শাকিল হাসান ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. মাহাবুব হাসান অনুর মধ্যে ভোটের লড়াই হতে পারে। শিক্ষার্থীদের এ দুজনের প্রার্থীর মধ্য থেকেই প্রতিনিধি বাচাই করে নিতে হবে। এ দুজনেরই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অঙ্গনে ভাল অবস্থান। এর মধ্যে অনু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট টিমের ব্যাটসম্যান।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদেও প্রার্থী মাত্র দুজন। তারা হলেন- ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম বিন ইসলাম রিমন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম জীবন।
এর মধ্যে শিবিরের প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্কুল অব ডিবেট’ এর সাধারণ সম্পাদক। যেসব শিক্ষার্থী দলের বাইরে গিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন চায়, তারা সবাই এ পদে আমিনুল জীবনকে ভোট দেবেন বলে মনে করছেন অনেকে।
একই সঙ্গে ছাত্রদলের সমর্থিত যেহেতু কেউ এ পদে নির্বাচন করছেন না, ফলে তাদের ভোটও আমিনুল ইসলামের দিকে আসতে পারে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সদস্যপদ পাঁচটির বিপরীতে প্রার্থী ২৮ জন। ফলে পদপ্রতি লড়বেন প্রায় ছয় জন করে। এর মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলে আছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া নাভা, সমাজকর্ম বিভাগের আদিবা সালেহাসহ পাঁচজন।
কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যপদে আর কোনো নারী প্রার্থী নেই বিধায় বেশিরভাগ নারী শিক্ষার্থী এ দুজন নারীকে ভোট দিতে পারেন।