১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে নামছে পানি, বাড়ছে ভাঙন: ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল

“বর্তমানে অধিকাংশ নদ-নদীর পানি কমলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2026, 06:48 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

কুড়িগ্রামে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।

এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নদীর পানি ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়ক পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলছেন, “জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।”

এদিকে বন্যার পানিতে জেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির পাট, আমনের বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

একই সঙ্গে পানি কমা-বাড়ার মধ্যেই জেলার বিভিন্ন নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রাথমিকভাবে জেলায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গছে। কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে। পানি আরও নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো যাবে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “বর্তমানে অধিকাংশ নদ-নদীর পানি কমলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, নদ-নদীর পানি ঘন ঘন বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার ফলে জেলার বিভিন্ন নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।