Published : 25 May 2026, 02:37 PM
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে।
সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় ছুটি পেয়েই রোববার রাত থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন অনেকেই। মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহনের চাপ দেখা যায; এরপর তা ধীরে ধীরে কমে আসে।
সোমবার ভোরে যাত্রা তুলনামূলক নির্বিঘ্ন থাকলেও বেলা ১১টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস মোড়ের উত্তর পাশ থেকে চান্দনা চৌরাস্তার দক্ষিণ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় পানি জমে যায়।
এতে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় সড়কে যানজট ও চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ও বাড়তে শুরু করে। মাথায়, হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ছুটে চলা মানুষদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
সকালে নগরীর ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীবাহী বাসগুলো সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষা করছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পেয়ে পুরো এলাকায় বাড়তি ব্যস্ততা দেখা দেয়।

রংপুরগামী যাত্রী আক্তার হোসেন বলেন, “ঈদের সময় যানজট ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এক সপ্তাহ আগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। রোববার কারখানা ছুটি হওয়ার পর সোমবার সকালে আমি রওনা হয়েছি।”
ভোগড়া এলাকার ভাড়াটে ও স্থানীয় একটি কারখানার পোশাককর্মী মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আমি ও আমার স্ত্রী আলাদা দুটি কারখানায় চাকরি করি। রোববার স্ত্রীর কারখানা ছুটি হয়েছে। তাই সন্তানসহ তাকে ময়মনসিংহগামী বাসে তুলে দিতে এসেছি। আমার কারখানা মঙ্গলবার ছুটি হবে।
“ভিড় এড়াতে সোমবার দুপুরের আগেই পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরের বাইপাস মোড় এলাকা থেকে গাড়িতে তুলে দিতে গিয়ে বৃষ্টির কবলে পড়ি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোগড়া বাইপাস মোড়ের উত্তর দিকে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি এড়াতে অনেক যানবাহন ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। তবে সেখানে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সকালে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ফ্লাইওভারে একটি মাইক্রোবাস বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকল গাড়িটি সরিয়ে নেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর যান পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়।
পাবনার চাটমোহর এলাকার সফিকুল ইসলাম বলেন, “রোববার ডিউটি শেষে আমাদের কারখানা ছুটি হয়েছে। ঝামেলা এড়াতে সকালে রওনা হয়েছি। এখনো রাস্তায় তেমন যানজট পাইনি। তবে দুপুরের পর মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।”
তবে ঈদযাত্র স্বস্বির করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “তিন ধাপে কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না বলে আমরা আশা করছি।”
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রসঙ্গে (এসপি) তিনি বলেন, “এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন এরইমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ শতাংশ শ্রমিকের বেতনও সোমবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।”
গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার বলেন, “জেলার অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। ধাপে ধাপে ছুটি হওয়ায় শ্রমিকরা স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি ফিরতে পারবেন।”

কোনাবাড়ীর নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। সোমবার অনেক কারখানা ছুটি হয়েছে, তাই দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, “চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সাভারের বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে যানবাহনের ধীরগতি দেখা দিতে পারে।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছি। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যাতে স্বস্তিতে গাজীপুরে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।”