Published : 15 Aug 2025, 04:33 PM
পঞ্চগড়ে ভারি বৃষ্টি বর্ষণ ও প্রবল স্রোতে পঞ্চগড়ে খালের উপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে।
মঙ্গলবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টির সময় সদর উপজেলার কুচিয়ামোড় স্লুইসগেট সংলগ্ন সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এ সময় স্লুইসগেটটি দেবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেতুটি ২০০৪ কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কুচিয়ামোড় এলাকায় স্লুইসগেট কাম সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি। কুচিয়ামোড় গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত সেতুটি পার হয়ে পূর্ব পাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ পঞ্চগড় জেলা শহরে যাতায়াত করেন।
সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কালজদিঘী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা মকবুল বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ‘কোনোরকমে’ সংযোগ সড়কটি সংস্কার করেছিল। ভালভাবে করলে হয়ত এমন অবস্থা হতো না। এখন পঞ্চগড় শহরে যেতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গলেহা এলাকা দিয়ে যেতে হবে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্রিজের দুই পাশে থাকা পাঁচটি দোকানও পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা বলেন, তারা রাত ১১টার পর দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। ভোরে এসে দেখেন, দোকানের কিছুই অবশিষ্ট নেই।
জমির উদ্দিন নামে একজন দোকানদার বলেন, “আমার দোকানে বিভিন্ন মালামাল ছিল, সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিছুই উদ্ধার করা যায়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, “এই ব্রিজটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এটা ভেঙে যাওয়ায় জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না।”
কুচিয়ামোড় এবদেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মনিরা খাতুন বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারবে না। তাদের কথা ভেবে দ্রুত অন্তত একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।

মকবুল নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “ভারি বৃষ্টিতে এলাকাটি পানিতে প্লাবিত হয়। জমে থাকা ওই পানি খাল দিয়ে নদীতে যেতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে সেতুটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা সড়কের দুইপাশ থেকে মাটি সরে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনার রহমান বলেন, “সড়ক থেকে সেতুতে প্রবেশ করার মাটি ধসে পড়ায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
“ধসে যাওয়া অংশটি দ্রুত মেরামতের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডর পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ জামান বলেন, “এই স্লুইসগেট কাম সেতুটির সংযোগ সড়ক থেকে খালের গভীরতা অনেক বেশি। খাড়া অবস্থায় থাকা সংযোগ সড়কটিতে মাটি আটকে থাকছিল না। এ জন্য সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল।
“এরই মধ্যে অতিরিক্ত পানির চাপে এমন অবস্থা হওয়ায় সেতুটি দেবে গেছে। সেতুর দুই পাশের মাটি পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, “প্রবল পানির স্লোতে সংযোগ সড়কের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষজন দুর্ভোগে পড়েছে। পানির স্রোত কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির পাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য এলজিইডির সহায়তায় অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হবে।”
তিনি বলেন, “স্লুইসগেটটি সংস্কার করা যাবে না। নতুনভাবে করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড় সদরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. রমজান আলী বলেন, “আমরা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।”