১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে ‘মুখে বিষ ঢেলে’ তরুণিকে হত্যার অভিযোগ

আরিফুল নিজ বাড়িতে তন্নীকে নেয়নি। এ অবস্থায় রোববার তন্নী নিজে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠে।

গোপালগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে ‘মুখে বিষ ঢেলে’ তরুণিকে হত্যার অভিযোগ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানা।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2026, 04:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে বিয়ে হওয়া তরুণিকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামের এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ মারা যান বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী।

নিহত নুসরাত হোসেন সানজিদা ওরফে তন্নী (১৮) ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের জাফর খানের ছেলে আরিফুল খান।

স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিন আগে আরিফুল রাতে তন্নীর সঙ্গে দেখা করতে আসলে গ্রামের লোকজন উদ্যোগ নিয়ে তাদের বিয়ে দেয়। কিন্তু আরিফুল নিজ বাড়িতে তন্নীকে নেয়নি। এ অবস্থায় রোববার তন্নী নিজে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠে।

নিহত তন্নীর বাবা জাহাঙ্গীর খান বলেন, “সোমবার তন্নী বাড়িতে এসে জানায়, শশুরবাড়ির লোকজন তার নামে দুই বিঘা জমি লিখে দিতে বলেছে। এরপর আমার মেয়ে স্বামীর বাড়ি চলে যায়। 

“মঙ্গলবার সকালে আমার মেয়েকে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে যায় স্বামীসহ শশুরবাড়ির লোকজন। এর আগে তাকে মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন।”

তিনি আরও বলেন, “মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে আমার মেয়ে মারা যায়।”

জাহাঙ্গীর খান বলেন, “আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন ও মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল খানের বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ  করে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। এ ছাড়া আরিফুলের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে মেয়ের পরিবারের লোকজন এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”