Published : 22 Sep 2025, 07:15 PM
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষণা প্রকল্পের আওতাধীন খামার থেকে ১৩টি ভেড়া চুরি হওয়ায় বন্ধ রয়েছে গবেষণা কার্যক্রম।
এদিকে ভেড়া চুরির রহস্য উদঘাটনে শেষপ্রান্তে থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গেইটের পাশের খামার থেকে গবেষণা প্রকল্পের ১৯টি ‘দরপার’ ও ‘গাড়ল’ জাতের ভেড়ার মধ্যে ১৩টি চুরি হয়ে যায়। চুরি হওয়া ভেড়ারগুলোর ওজন ৪৩ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত। ছয়টি ছোট-বড় ভেড়া অবশিষ্ট রয়েছে।
এর আগে ১ অগাস্ট ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়ে এই গবেষণা প্রকল্পের ২২টি ভেড়ার মৃত্যু হয়।
সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, “ভেড়া চুরি হওয়ার কারণে গবেষণা বন্ধ রয়েছে। নয়জন শিক্ষার্থীর গবেষণা শেষ পর্যায়ে ছিল, এরমধ্যে আমিও একজন। এমন ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ভেড়ার শুক্রাণু সংগ্রহ করা হত।
“বিগত অর্থবছরে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ এবং বারহাট্টা উপজেলার ২০০ খামারিকে এ উন্নত জাতের ভেড়ার শুক্রাণু বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল। জাত ভালো হওয়ায় দিন দিন চাহিদাও বাড়ছিল। চুরি হওয়া ভেড়াগুলো দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন।”
গবেষণায় যুক্ত সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ফরিদা ইয়াসমিন বারি বলেন, “তিনটি প্রজনন প্রকল্প এবং দুটি গবেষণা প্রকল্প চলমান। ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া ও চুরি হওয়া ভেড়াগুলো তৃতীয় প্রজন্মের। পাশের ভবনের সিসি টিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকার কারণে চোর শনাক্ত করা যায়নি।
“বহু পরিশ্রমে আমি এই ‘নিউক্লিয়ার স্লট’ গড়ে তুলেছি। এর জন্য আমি ‘গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেছিলাম। ২০১১ সাল থেকে গবেষণা চলমান থাকায় এসব ভেড়া থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। চুরির পর শুধু আমার ব্যক্তিগত গবেষণা নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।"

তিনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমিও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কোনোভাবেই এ ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না।”
সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম বলেন, “১৩টি ভেড়া চুরি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। নিরাপত্তাকর্মী না থাকার কারণে এমনটি হয়েছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে। আশা রাখছি, পুলিশ দ্রুত ভেড়াগুলো উদ্ধারে পদক্ষেপ নেবে।”
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নজমুল ইসলাম বলেন, “বুধবার বিকালে খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই কর্মী সালাম এবং রায়হান খামারটি ফাঁকা রেখে চলে যান। তারপর ভেড়াগুলো চুরি হয়ে যায়।”
শুক্রবার মামলা করেছেন জানিয়ে তিনি আশা করছেন, ভেড়াগুলো পুলিশ উদ্ধারে পদক্ষেপ নেবে।
খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয় জেনে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভেড়ার বৈশিষ্ট্য হল- পরিচিত মানুষের ডাকে তার পিছনে দলবেঁধে যাওয়া। এতে বুঝা যায়, কোনো পরিচিত মানুষই চুরির সঙ্গে জড়িত। আমরা মোটামুটি বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ভেড়া উদ্ধারে অভিযান চলছে।”