Published : 24 May 2026, 11:47 AM
কোরবানির ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিন বন্ধ থাকছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক আদেশে ঈদের দিন বাদে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহার কথা জানিয়েছেন বন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) কার্যক্রমে যুক্তরা।
১৭ মে কাস্টমস নীতি সংক্রান্ত দ্বিতীয় সচিব রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, “দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখার অভিপ্রায়ে আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
তবে বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কর্মচারীরা কেউ ঈদের ছুটিতে কাজ করতে আগ্রহী না। সে ক্ষেত্রে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ছুটির মধ্যে কাজ কতটুকু হবে সেটাই ভাববার বিষয়।”
তিনি বলেন, “এবার ২৫ মে থেকে সাত দিন ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি শেষে ১ জুন সোমবার থেকে অফিস খোলা থাকছে। ওদিন থেকেই পুরোদমে চলবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এই সময়ের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রাখতে আমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানিয়েছি।”
তবে বেনাপোল বন্দর ও শুল্কভবন কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছেন এ সময় কেউ চাইলে অবশ্যই পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, “ঈদের ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে তবে কাস্টমসের সাথে সমন্বয় করে সীমিত আকারে খোলা রাখা হবে। কোনো আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি নিতে চাইলে দেওয়া হবে।”
বেনাপোল ক্লিয়ারিং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট 'কপোতাক্ষী এজেন্সিজ' এর মালিক মশিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার। আড়াই ঘণ্টায় চলে আসে পেট্রাপোল বন্দরে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে থাকেন।
এর মধ্যে লম্বা ছুটি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে ট্রাকের জট বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছুটির আগেই পণ্যবাহী ট্রাকের জট রয়েছে বলে জানিয়ে ভারতের পেট্রাপোলে বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কার্ত্তিক চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক অপেক্ষা করছে।
“এসব পণ্য পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢুকবে ছুটি শেষে। এতে পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে।”
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর শেখ বলেন, “প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে তিন থেকে চারশ ট্রাক আসে বেনাপোল বন্দরে আর বেনাপোল দিয়ে দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক পণ্য যায় ভারতে।
দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য এই বন্দর দিয়ে আসে বলে জানান তিনি।
এদিকে ছুটির এ কয়দিন কাস্টমস ও বন্দরের কাজ বন্ধ থাকলেও দুদেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।”
এছাড়া ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরে যাতে কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিনে রাতে বন্দর এলাকায় টহল দিবে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানা কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।