জয়পুরহাটে খোলাবাজারে ৩৬ টাকা কেজিতে আলু বিক্রির উদ্যোগ

“আগামী মৌসুম থেকে বীজ আর খাবার আলু সংরক্ষণে বস্তা, মেমো, রেজিস্ট্রার ও হিমাগারের চ্যাম্বার আলাদা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Nov 2023, 03:01 PM
Updated : 2 Nov 2023, 03:01 PM

সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি ছাড়াও হিমাগারগুলোতে এর বীজ সংরক্ষণের নিয়মাবলী নিয়ে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার ১৯টি হিমাগারের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলুর বাজারদর ঠিক রাখতে খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত পাইকারী কেজিপ্রতি ২৬-২৭ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা বিক্রি নিশ্চিত করতেই এ সভার আয়োজন করা হয় বলে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী জানান।

“এখন থেকে জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রতিদিন খোলা বাজারে তিন টন করে মোট ১৫ টন আলু বিক্রি করা হবে। ট্রাকযোগে খোলাবাজারে পাঁচটি পয়েন্টে সরকার নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে এই আলু পাওয়া যাবে। প্রতি পরিবার বা ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে আলু কিনতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “এ ছাড়া হিমাগারে বীজ ও খাবার আলু একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে খাবারের আলুর চেয়ে বীজ আলুর দাম প্রায় দ্বিগুন। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বীজ আলুর নাম দিয়ে খাবার আলু বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, সে কারণে আগামী মৌসুম থেকে বীজ আর খাবার আলু সংরক্ষণে বস্তা, মেমো, রেজিস্ট্রার ও হিমাগারের চ্যাম্বার আলাদা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

“এ সিদ্ধান্তটি দেশের মধ্যে এই প্রথম নেওয়া হল। পরীক্ষামূলক এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো পরামর্শও দেওয়া হয়েছে”, যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

সভায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিভাগ ও কৃষি বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় মৌসুমের শুরুতে এক লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন আলু ১৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। বুধবার পর্যন্ত এর মধ্যে সাত থেকে আট শতাংশ আলু মজুত ছিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সালেহীন তানভীর গাজী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার পারভেজ, জেলা কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাহেলা পারভীন, কৃষি বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা এনামুল হক, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রতন কুমার।