Published : 21 Jan 2026, 06:49 PM
সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশক্তির কিছু নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জের ধরে রংপুরে ছাত্রশক্তির এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নাহিদ হাসান খন্দকার ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির সংগঠক ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) রাজেমুজ্জামান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, নাহিদ হাসান খন্দকার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তিকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন, বানানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
কোনো ধরনের সাংগঠনিক যাচাই-বাছাই কিংবা প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য প্রদান দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নীতি ও আদর্শের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে একই সময়ে নাহিদ হাসান খন্দকারও তার ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এর আগে, গত ১৩ জানুয়ারি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে নাহিদ হাসান খন্দকার তার ফেইসবুকে পোস্টে লিখেছেন, ‘শুনলাম বৈষম্য এবং ছাত্রশক্তির পদধারী কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং কিছুদিন আগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাতেও বিভিন্নভাবে প্রশ্নের উত্তর সাপ্লাই করছেন বড় টাকার বিনিময়ে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইমতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর তার কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তিনি যেসব প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে ছাত্রশক্তির কোনো নেতাকর্মীর প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত নন।
“পরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে নাহিদ হাসানের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় তাদের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও ক্লিপ পান। ওই ভিডিওতে ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির এক নেতা প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।
নাহিদের অভিযোগ, ভিডিও ক্লিপটি পাওয়ার পর যিনি তাকে ভিডিওটি দিয়েছিলেন, তাকে দুই নেতা তুলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।
তার দাবি, ছাত্রদল বা শিবিরকে জড়িয়ে অভিযোগ তুললে তাকে কিছু বলা হতো না। কিন্তু নিজেদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলার কারণেই তাকে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাসহ অনেক মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে। এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ডকুমেন্টস তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।