Published : 02 Nov 2025, 09:01 PM
জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংঘর্ষ জড়িয়েছে গ্রামের দুই পক্ষ। মাথায় হেলমেট হাতে ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।
রোববার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা থানার ওসি আশরাফ হোসেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সেনা সদস্যরা এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার জমি-জমার বিরোধ নিয়ে গোপীনাথপুর গ্রামের সাইমন মাতুব্বর ও কুদ্দুস মাতুব্বরের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
এ নিয়ে রোববার বিকালে শালিস বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য আশেপাশের কয়েক গ্রামের সালিশি-মুরুব্বিরাও এলাকায় আসেন। কিন্তু শালিসের মধ্যেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তখন ছোট হামেরদী, খাড়া কান্দি ও বাইশা খালি এলাকার লোকজনও দুই দলের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষকারীরা মাথায় হেলমেট পরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি, কালি, কাতরা, টেঁটা ও সড়কের ইট ভেঙে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ইট ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু গ্রামবাসীকে কোনোভাবেই শান্ত করা যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমরা পিছু হটি।”
তিনি বলেন, “পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তারা আসলেই পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর না থাকায় সংঘর্ষকারীরা একাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর করে দামি দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।