রাজবাড়ীতে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ পোড়ানোর ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার
অতিরিক্ত পুলিশ বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল জানিয়েছেন, তিনি ‘নুরাল পাগালা’র লাশ পোড়ানোর সময় তাতে তেল ছিটিয়ে দেন।”
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ পোড়ানোর ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার ভোরে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ আল রাজিব।
গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম নজির (৩৩) উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নাসের মাতুব্বরপাড়া গ্রামের আকবর শেখের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ৫ অগাস্ট জুম্মার নামাজের পর ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র দরবারে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পুলিশসহ অর্ধশত মানুষ আহত হয়। হামলায় নিহত হন ভক্ত রাসেল মোল্লা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপর, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। পরে ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহটি কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।
পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় শুক্রবার রাতেই অজ্ঞাত তিন হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহতের ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেন তার বাবা আজাদ মোল্লা। মামলায় হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো, ক্ষতিসাধন, চুরি ও জখমের অভিযোগ আনা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ আল রাজিব বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল জানিয়েছেন, তিনি ‘নুরাল পাগালা’র লাশ পোড়ানোর সময় তাতে তেল ছিটিয়ে দেন। গুরুতর জখম, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, কবর থেকে লাশ উত্তোলন, পোড়ানোর মামলায় নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুটি মামলায় মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
