১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বান্দরবানে বেনজীরের সম্পত্তি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে

বান্দরবানে বেনজীর ও তার মেয়ের নামে তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত ২৫ একর জমিতে পুকুর, বাগান ও খামার বাড়ি রয়েছে।

বান্দরবানে বেনজীরের সম্পত্তি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে
বান্দরবানের সদর উপজেলায় বেনজীরের জমিতে গিয়ে সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন জেলা প্রশাসক।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jul 2024, 08:49 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:10 PM

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে বান্দরবানের সদর উপজেলায় থাকা সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে তত্ত্বাবধানে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়ায় বেনজীরের বাগানবাড়ি ও সংলগ্ন জমিতে গিয়ে সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা, এডিসি (রাজস্ব), সদর ইউএনও, বন বিভাগ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা।

বেনজীরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর বান্দরবানে বেনজীর ও তার মেয়ের নামে ২৫ একর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত এসব জমিতে পুকুর, বাগান ও খামার বাড়ি রয়েছে।

সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার পর জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক এই সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। এটার দেখভাল রিসিভার বা জেলা প্রশাসন করবে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

“রিসিভার কমিটি আজকে পরিদর্শন করেছে। বাকী দেখভালও এই কমিটি করবে। এছাড়া নির্দেশনা মতে দুই মাস পরপর প্রতিবেদন দিয়ে দুদকের মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হবে।”

এদিকে বেনজিরের পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান ও খামারটির তত্ত্বাবধায়কের দ্বায়িত্বে থাকা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মংওয়াইচিং মারমা অভিযোগ করেন জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত করা জমির মধ্যে তার নিজের জমিও আছে। 

তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় তিনি স্থানীয় চারজন পাহাড়ির কাছ থেকে তৃতীয় ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৯ একর  জমি ক্রয় করেছেন। তার ওই জায়গাও বেনজীরের সম্পত্তির অংশ হিসেবে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। 

এই সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে  জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, কমিটি আদালতের আদেশ পালন করতে এসেছে। এখানে তার জায়গা থেকে থাকলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে বেনজীর , তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। সেই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের নামে থাকা শেয়ারও অবরুদ্ধ করার আদেশ আসে। সেই অনুযায়ী পরে ব্যবস্থাও নেয় দুদক।

তবে বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধে আদালতের আদেশের আগেই তিনি সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন বলে গণমাধ্যমে তথ্য এসেছে।

এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক আইজিপি ও তার স্ত্রী কন্যাদের তলব করা হলেও তারা কেউ হাজির হননি।

আরও পড়ুন

বেনজীরের আরও সম্পত্তি তদারকিতে তত্ত্বাবধায়ক

হাজির হননি বেনজীরের স্ত্রী-মেয়েরাওআইন অনুযায়ী ব্যবস্থাদুদক সচিব

নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বেনজীরের রিসোর্টে ক্রোক বিজ্ঞপ্তি

বেনজীরের রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিল জেলা প্রশাসন

গোপালগঞ্জে বেনজীরের রিসোর্ট 'আপাতত' বন্ধ

বেনজীরের রিসোর্টের সামনে গ্রামবাসীকে লাঠিপেটার অভিযোগ

সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে যা বললেন বেনজীর আহমেদ

বেনজীরের সম্পদ জব্দের উদ্যোগ রোববার শুরু হতে পারে: দুদক আইনজীবী

বেনজীরের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আদালতের