Published : 14 Feb 2026, 12:53 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘ককটেল বানানোর সময়’ বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই বিস্ফোরণের শব্দ এতো তীব্র ছিল যে তা শোনা গেছে এক কিলোমিটার দূর থেকেও।
শনিবার ভোর ৫টার দিকে চরবাগডাঙ্গা ইউপির ফাটাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ গ্রাম থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সোনারপট্টি গ্রাম। সেই গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে ভেবেছি পাথরবাহী ট্রাকের চাকা ফেটে গেছে। পরে আস্তে আস্তে খবর পাই এ বিস্ফোরণের।”
এদিকে বিস্ফোরণে নিহত দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হলেও আহতদের পরিচয় জানিয়েছেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
তারা হলেন, ফাটাপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান (২০) ও মিনহাজ (৫২), অপরজন রাণীহাটির রামচন্দ্রপুর এলাকার ধুমি গ্রামের মো. শুভ (২০)। তাদেরকে রাজশাহীতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে আহতদের দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর কে বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বজলুর রহমান এবং মিনহাজ নামে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন ২ নম্বর ওয়ার্ডে, অপরজন ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, ভোরবেলা ৫টা-৫.৩০টার দিকে এখানে বিকট শব্দ হয়। ককটেল বিস্ফোরণ বা বোমা বিস্ফোরণের মতো শব্দ।”
“আমাদের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট আসছে, তারা আসার পরে এই ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবেন। আরও কোনো আলামত বা অবিস্ফোরিত কিছু আছে কি না সেটা দেখার পর আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করব।”
তিনি বলেন, “আমরা লাশের কাছে যেতে পারিনি, লাশগুলো বিকৃত অবস্থায় আছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে, ককটেল তৈরি বা মজুত করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে পরে জানাতে পারব।”
স্থানীয় চরবাটান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “শব্দ শোনার পর তাৎক্ষণিক আমার চৌকিদারকে বলি যে, দেখো তো কী হয়েছে? ঘটনাটা আশেপাশেই হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে 'ককটেল বানানোর সময়' বিস্ফোরণে ২ জন নিহত, আহত ৩
“পরে আমার চৌকিদার এসে বলছে যে, কালামের বাড়িতে এই দুইজন পড়ে আছে। আরও কিছু লোক জখম ছিল, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু এই দুইজনকে নিতে পারেনি। তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ‘পানি পানি’ বলে চিৎকার করেছে, কিন্তু বোমা আছে মনে করে কেউ ভয়ে কাছে যায়নি।”
বিস্ফোরণের শব্দের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন “এমন একটি বোমা যদি কোনো জনবহুল জায়গায় বিস্ফোরিত হতো, তবে অন্তত ৫০০ লোক মারা যেত—এমন বিকট শব্দ ছিল এগুলোর।”
এ জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, “আমাদের ধারণা, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যই এই বোমাগুলো তৈরি করা হচ্ছিল। যেহেতু ঘটনাটি ঘরের ভেতরে ঘটেছে এবং ঘরের টিন উড়ে অনেক উঁচুতে চলে গেছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি বোমা বানানোর সময় ঘটেছে। কালামের তেমন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে সে দুলালের কথা মতো চলত। এই বাড়িটি নিরিবিলি হওয়ায় তারা বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ মনে করেছিল।”
তিনি এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করারও দাবি জানান।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রাজশাহী প্রতিনিধি)