Published : 29 Jul 2025, 07:18 PM
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ক্লাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। প্রথমদিন দুটি শিক্ষাবর্ষের অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থী ক্লাসে যোগ দিয়েছেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ সময় কুয়েটে উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালী বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সব হতাশা কাটিয়ে অনেকটা নতুন করে শুরু করছি। এখনও সব শিক্ষার্থী আসেননি। যাদের কেবল ক্লাস রয়েছে, তারা অংশ নিচ্ছেন। যাদের পরীক্ষা ছিল, তারা প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন। এ ছাড়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন হবে ১৪ অগাস্ট আর ক্লাস শুরু ১৭ অগাস্ট।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি বন্ধকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
ওইদিন রাতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানায় পরদিন দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা থেকে কুয়েট উপাচার্যকে মেডিকেল সেন্টারে অবরুদ্ধ রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন বিকালে তিনি মুক্ত হন। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তিনি জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি কুয়েটের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে উপাচার্য বাসভবনে প্রবেশ করেন।
এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে বাসভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় ২৫ ফেব্রুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ১৪ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তবে ৩৭ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে ওইদিন থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে অনশন শুরু করেন ৩২ শিক্ষার্থী।
সংকট সমাধানে ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি প্রতিনিধি দল এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার কুয়েটে যান।
দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। পরে রাতেই কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায় সরকার।
১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অধ্যাপক মো. হযরত আলীকে কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়। তবে ৪ মে থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও ক্লাসে যাননি শিক্ষকরা।
এক পর্যায়ে ১৮ মে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বর্জন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। এমন পরিস্থিতিতে ২২ মে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক হযরত আলী পদত্যাগ করেন।
সবশেষ ২৪ জুলাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরদিন তিনি খুলনায় গিয়ে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন মাকসুদ হেলালী। সোমবার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় আন্দোলন কর্মসূচি তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস শুরুর নোটিশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।