মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে ‘গুলি করে’ ও কুপিয়ে জখম

একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে পায়ে ‘গুলি করে’ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2023, 04:53 PM
Updated : 24 Jan 2023, 04:53 PM

মুন্সীগঞ্জে তুলে নিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ‘গুলি করে’ ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের স্বজনের বিরুদ্ধে।   

মঙ্গলবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেশনাল থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে স্বজনদের অভিযোগ।

জিয়া সরকার (৪৫) নামের এই ব্যক্তি সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের জেদ্দাল সরকারের ছেলে।

তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেশনাল থেকে তাকে তুলে এনে পায়ে গুলি করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আমঘাটায় ফেলে রাখে একদল হামলাকারী।

আহত জিয়া সরদারের বড় ভাই বাবুল সরদার বলেন, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরজাবাদে তার ভাই ইট-বালুর ব্যবসা করেন। দোকান বন্ধ করে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী বেশনাল কালভার্টের কাছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই ও তার সহযোগীরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেন। পরে রিপন পাটোয়ারীর বাড়ি আমঘাটায় নিয়ে যান।

“সেখানে জিয়ার পায়ে গুলি করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখে।”

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “কে বা কারা কুপিয়েছে জানি না। তবে আমার ভাই এর সঙ্গে জড়িত না।”

আহত জিয়া মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং তিনি মুক্তারপুর এলাকায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি বলে রিপনের ভাষ্য।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া পায়ে দুটি গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহত জিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ওসি তারেকুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা তথ্য পেয়েছি ওই ব্যক্তিকে ডিবি পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে। ওই ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপানোর চিহ্ন মিলেছে। পায়ে থেঁতলানো অংশে, কোপ হতে পারে, আবার ছররা গুলিও হতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক