Published : 17 Sep 2026, 02:20 PM
নড়াইলের কালিয়ায় মাছের ঘেরের পাড়ে সবজির আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন মালিকরা। এতে দিন দিন সবজির আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে উপজেলার ভক্তডাঙ্গার বিলে ঘেরের পাড়ে সবজির আবাদ বেশি হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকছেন এ এলাকার ঘের মালিকরা।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চলতি মৌসুমে কালিয়া উপজেলায় ৭৭৬ হেক্টর জমিতে উচ্চ মূল্যের বিভিন্ন সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ঘেরের পাড়েই ১৫৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে।
ঘেরের পাড়ে সবজি চাষে সফলতা পাওয়াদের মধ্যে অন্যতম নূর আলম জিকু। তিনি ১৫৪ একর জমির বিশাল ঘেরের পাড়ে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। সেসব গাছে ঝুলছে বড় বড় মিষ্টি কুমড়া।
জিকু কালিয়া পৌরসভার সিতারামপুর গ্রামের শেখ সেলিম হোসেনের ছেলে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০১৯ সালে করোনার সময় বাড়িতে বসে না থেকে ঘেরের ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে মাছ চাষের পাশাপাশি পাড়ে প্রায় চার হাজার মিষ্টি কুমড়ার গাছ লাগিয়েছি।
জিকু বলেন, ঘেরে মাছ চাষের ও সবজির আবাদের কাজ করছেন ৫৫ থেকে ৬০ জন। তারা এখানে কাজ করে যে বেতন পান তা দিয়ে তাদের পরিবার নিয়ে ভালো আছেন।
তিনি আরও বলেন, “এসব গাছের চারা কেনা-লাগানো ও পরিচর্যা করা পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। বর্তমান মিষ্টি কুমড়ার বাজার মূল্য ভালো থাকায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মত ফসল বিক্রি করতে পারব বলে বলে আশা করছি।”
তার ঘেরে কাজ করা শ্রমিক তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি দেড় বছর যাবৎ এই ঘেরের দেখা-শোনাসহ পাড়ে সবজির আবাদের কাজ করি। তাতে যে টাকা পাই তাই নিয়ে ভালোভাবে পরিবার চলছে।”
আরেক শ্রমিক হাকিম শেখ বলেন, “আমি ঘেরের শুরু থেকেই এখানে কাজ করছি। মাছের খাবার দেয়া, ঘেরের পাড়ে সবজির চারা লাগানো, সার দেয়া, পরিচর্যা করে থাকি। আমার মত অনেকে এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”
কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাছের পাশপাশি সবজি চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি সবজির উচ্চ মূল্য পাওয়ায় খুশি কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ চাষিদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান এই কৃষিবিদ।