২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভেলা-চাড়ি বাইচে বারাশিয়া নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ

“যুবসমাজকে মাদক ও ধ্বংসের হাত থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজন করা প্রয়োজন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 12:06 PM

Updated : 23 Sep 2026, 12:16 PM

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন আরও নিয়মিত করা প্রয়োজন।”

এদিকে ভেলা ও চাড়ি বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে বসে খাবার ও শিশুদের খেলনার দোকান। ফলে বাইচকে ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় গ্রামীণ মেলার আবহ। দীর্ঘদিন পর এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে পেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাছে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা।

পেশায় আইনজীবী কুরবান আলী নামের একজন বলেন, “আজকের এই উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা সাধারণ মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজন করা হলে আমাদের সমাজ উপকৃত হবে।”

আয়োজকরা জানান, আধুনিক বিনোদনের প্রভাবে গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে এসব লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া খেলাধূলাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেল ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে।

বারাশিয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভেলা ও চাড়ি বাইচ। এ আয়োজন ঘিরে নদীর দুই পাড়ে নামে মানুষের ঢল। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নানা গ্রামীণ খেলাধুলা ও খাবারের পসরা সাজায় পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

মঙ্গলবার বিকালে আঁধারকোঠা ও গুনবহা গ্রামের সংযোগ সেতুর পাশে বারাশিয়া নদীতে এ আয়োজন করা হয়।

নদীর বুকে ভেলা ও চাড়ির প্রতিযোগিতা আর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের করতালি আর উল্লাসে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। ভেলা ও চাড়ি বাইচের পাশাপাশি হাঁস ধরা, কলাগাছ বেয়ে ওঠা এবং নারীদের চেয়ার সিটিং প্রতিযোগিতারও আয়োজন ছিল।

প্রতিটি প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব আয়োজন উপভোগ করেন।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।”

তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদউদ্দিন মিয়া দিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী শাহিদুজ্জামান লিটনের মতে, এক সময় ভেলা ও চাড়ি বাইচ, হাঁস ধরা কিংবা কলাগাছ বেয়ে ওঠার মতো আয়োজনই ছিল গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম।

তিনি বলেন, “সময়ের সঙ্গে এসব ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে বোয়ালমারীর বারাশিয়া নদীর এ আয়োজন প্রমাণ করেছে, উদ্যোগ নেওয়া হলে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিও আবার মানুষের মাঝে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন বলেন, “যুবসমাজকে মাদক ও ধ্বংসের হাত থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজন করা প্রয়োজন।”