Published : 25 Jan 2026, 05:02 PM
মাদারীপুর সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন চাল সংগ্রহ কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলার দুইটি খাদ্য গুদামে সেগুলো সংরক্ষণও করা হয়েছে।
এবার আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬৬৫ টন হলেও চালের গুণগত মান খুবই ভাল পাওয়ায় অতিরিক্ত ৩৬২ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শেখ জিকরুল আলম।
খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত নভেম্বরে মাসে উপজেলার ইটেরপুল খাদ্য গুদাম ও চরমুগরিয়া খাদ্য গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ৬৬৫ টন আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার।
যার মধ্যে ইটেরপুল খাদ্য গুদামে ৩৬৫ টন ও চরমুগরিয়া খাদ্য গুদামে ৩০০ টন আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যই অর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরে ইটেরপুল খাদ্য গুদাম ১৯৬ টন ও চরমুগরিয়া খাদ্য গুদাম ১৬৬ টন অতিরিক্ত চাল সংগ্রহ করেন।
ইটেরপুল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় মল্লিক বলেন, “আমিসহ আমাদের খাদ্য কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে আমরা এ বছর আমন চাল সংগ্রহ করেছি। যাতে চাল নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ তুলতে না পারে। খুবই উন্নত মানের চাল এ বছর আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি।”
খাদ্য গুদামের সংগ্রহ করা এসব আমন চাল মাদারীপুরের পুলিশের রেশন, ভিডব্লিউবি, আনসার সদস্যদের রেশন, কাবিখা, জিআর, ওএমএস, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি, টিসিবিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবামূলক খাতে খরচের জন্য বরাদ্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।

একই ধরনের কথা জানালেন চরমুগরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিত মল্লিক।
তিনি বলেন, এ বছর চরমুগরিয়া খাদ্য গুদামে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা মেশিনের সাহায্যে পরিমাপ করে আমন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার গুদামজাত করণ চালের কোয়ালিটি অনেক ভাল পাওয়া গেছে।
এবার বিসমিল্লাহ এগ্রো ফুড লিমিটেড ও খান ট্রেডার্সের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে বিসমিল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড অটো রাইস মিলের মালিক বিপ্লব দর্জি বলেন, “উপজেলার দুটি খাদ্য গুদামে চলতি আমন মৌসুমে আমি সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী অত্যন্ত উন্নত মানের সিদ্ধ আমন চাল ৫০ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করেছি।”
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শেখ জিকরুল আলম বলেন, “এসব চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের এর নীচে পরিমাপ করে সংগ্রহ করেছি। যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।”
নীতিমালা অনুযায়ী সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে চাল কেনে না, কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয় ধান। আর চাল কেনা হয় মিলার বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব অহিদুজ্জামান খান বলেন, সরকারি ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে শুধু ধান ক্রয় করা হয়। ধানের পাশাপাশি সরকার যদি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য দামে চাল ক্রয়েরও একটি ব্যবস্থা রাখত, তাহলে কৃষকরা আর্থিক ভাবে বেশ লাভবান থাকত।
“আমি সরকারের কাছে দাবি করছি, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের মতন করে চাল ক্রয়েরও ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে আমাদের কৃষকরাও উপকৃত হবে।”