Published : 31 Aug 2025, 01:02 AM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হলের সামনে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তখন সেখান থেকে তাদের চলে যেতে বলেন একজন সহকারী প্রক্টর। এ নিয়ে কথপোকথনের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রদের একজনের ‘পরিচয়পত্র জব্দের’ চেষ্টা করেন ও তাকে ‘মাদকাসক্ত’ বলে মন্তব্য করেন সহকারী প্রক্টর।
শনিবার এ ঘটনার জেরে রাত ১০টার পর ছাত্রী হলের সামনে থাকা সেসব শিক্ষার্থী এবং তাদের বন্ধুরা প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রক্টর এসে দুঃখ প্রকাশ করলে তারা ফিরে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ভুক্তভোগী ফাহিম মুনতাসীর রাফিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাফিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জুলাই-৩৬ হলের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস গাড়ি করে সেখানে গিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক চলে যেতে বলেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাকে বলেন, তাদের কাজ শেষ হয়নি, হলেই তারা চলে যাবেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সহকারী প্রক্টর ওই সময় তাদের জোর করে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা জানতে চান, ’রাত ৯টার পর মেয়েদের হলে সামনে বসা নিষিদ্ধ’- এমন কোনো নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কিনা। এ প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই সহকারী প্রক্টর।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তখন সহকারী প্রক্টর রাফিনের ‘পরিচয়পত্র জব্দ’ করার চেষ্টা করেন এবং ছাত্রত্ব বাতিলসহ পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। এসময় তাকে ‘মাদকাসক্ত’ বলেও মন্তব্য করেন।
রাফিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে তিনি কীভাবে আমাকে মাদকাসক্ত বলতে পারেন? শুধু প্রতিবাদ করায় তিনি ছাত্রত্ব বাতিল ও পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পরে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে সেখানে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে পুরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।
তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার প্রক্টোরিয়াল টিমের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি। শিক্ষার্থীরা আমার কথা মেনে নিয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।