Published : 20 Mar 2026, 09:34 AM
ঈদের ছুটির মধ্যেই ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের দৃষ্টিনন্দন পুকুরের একটি অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
তবে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতাদের দাবি, পৌরসভার কাছ থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় বৈধভাবেই স্থাপনা নির্মাণ করছেন তারা।
এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুকুর ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পূর্বপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল গেট সংলগ্ন একটি বড় পুকুর রয়েছে। পুকুরটির পূর্ব পাশে অন্তত চারটি ঝুপড়ি ও বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে গেটের কাছাকাছি একটি অংশে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের জন্য আরসিসি পিলার বসানোর কাজ চলছে এবং এরই মধ্যে অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে প্রায় ১০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত থেকে কাজে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শিবলী সাদিককে।
তার সঙ্গে রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. পারভেজ খান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম মামুন রহমানসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
শিবলী সাদিক সাংবাদিকদের বলেন, “ফরিদপুর পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।”
তিনি একটি চুক্তিপত্রও দেখান। তাতে দেখা যায়, ২০১১ ও ২০১২ সালে সাবেক পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ব্যক্তিকে লিজ দেওয়া হয়। তারা শহরের কমলাপুর কুঠিবাড়ী এলাকার মৃত শাহাজাহান তালুকদারের ছেলে। এর মধ্যে মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
শিবলী বলেন, “শাহীন তালুকদার প্রতিবন্ধী। তিনি আমার প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় আমাকে ঘরটি করে দিতে বলেছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কাজ করছি। সব কিছু বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই করা হচ্ছে। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না।”
তবে কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিমের অভিযোগ, পৌরসভার জায়গার বাইরে কলেজের জমিও দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ঈদের ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এখানে পাকা স্থাপনা হয়ে গেলে তা অপসারণ করা কঠিন হবে এবং কলেজের সৌন্দর্য নষ্ট হবে।”
তিনি বলেন, “ওরা আমাকে ফোন দিয়ে বলে বিগত ১৭ বছরে কিছু করতে পারি নাই স্যার, এখন এতুটুক সুযোগ দিতে হবে। শুনেছি, কলেজের ছাত্রদলের নেতারাও আছে তাদের সঙ্গে।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভা থেকে লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা একটি পুরোনো লিজের কাগজ দেখিয়েছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঈদের পর লিজের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”