Published : 14 Feb 2026, 05:37 PM
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলায় জসিম উদ্দিনকে হত্যার ঘটনা মূলত ‘পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে’ ঘটেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
উপজেলার চরআব্দুল্লাহ গ্রামে এ সহিংসতার ঘটনার পর সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ১৯ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।
শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথা কাটাকাটির মাধ্যমে সেই বিরোধ নতুন করে উসকে ওঠে।
“দুই পক্ষ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকলেও ঘটনার মূল কারণ ছিল পারিবারিক কলহ।”
এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোল্লাকান্দির একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পরদিন শুক্রবার জেলার কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব বলেন, শ্রীনগরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আনন্দপুর ও মোল্লাকান্দি এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানে টহল জোরদার করা হয়। আগলা এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
জসিম উদ্দিন হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “চর আব্দুল্লাপুর এলাকায় ডাক্তার নাসিরের পক্ষ ও জসিমের পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্কের অবনতি ছিল। পারিবারিক সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল।
“নির্বাচনের পর সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। প্রথমে হাতাহাতি হয়, পরে বিকালে অতর্কিত হামলায় জসিম গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।”
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোল্লাকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগের সংবাদ