১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরের ২২টির মধ্যে ১৯টি হিন্দু পরিবার বাড়িতেই আছে: ডিসি

‘উত্তেজিত জনতা’ শনিবার রাত ও রোববার বিকালে ওই কিশোরের বাড়িসহ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের’ বাড়িগুলোতে ভাঙচুর চালায়।

রংপুরের ২২টির মধ্যে ১৯টি হিন্দু পরিবার বাড়িতেই আছে: ডিসি
রংপুরের গঙ্গাচড়ার উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই বাড়িঘরে আছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2025, 04:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় সবাই বাড়িঘরে আছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।  

শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলার পর সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, ২২টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে ১৯টি পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বাড়িতেই আছে। বাকি তিনটি পরিবার পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেটি নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে দুপুর ১২টার দিকে পোস্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ২২টি পরিবারের মধ্যে ১৯টি পরিবার বর্তমানে তাদের বাড়িতেই আছে। কটুক্তির অভিযোগে আটককৃত রঞ্জন কুমার রায় এবং তার চাচার পরিবারসহ মোট তিনটি পরিবার পার্শ্ববর্তী গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। 

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িঘর মেরামত করার কাজ শুরু করা হবে। তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে রংপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান, হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বাড়িগুলোতে ২২টি পরিবার বসবাস করতো। 

তিনি জানান, রঞ্জন আটক হওয়ার পর থেকেই তার বাবা, দাদা এবং চাচার পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আছেন। অন্যান্য ১৯টি পরিবারের সকল পুরুষ সদস্য তাদের নিজ নিজ বাড়িতেই আছেন। ঘরবাড়ি ভাঙ্গা থাকায় কিছু নারী সদস্য মালামাল নিয়ে রিকশাভ্যান যোগে অন্যত্র চলে গেছে। 

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকায় সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত হলে নারী সদস্যগণসহ সকলেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরবেন বলে জানান তিনি। 

এই হামলার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার গ্রামের এক কিশোর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় পাশের এলাকা থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ছেলেটির গ্রামে প্রবেশ করে। তারা বাড়িঘরে হামলা চালায়।

‘উত্তেজিত জনতা’ শনিবার রাত ও রোববার বিকালে ওই কিশোরের বাড়িসহ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের’ বাড়িগুলোতে ভাঙচুর চালায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ঘটনার পর সোমবার আতঙ্কে লোকজন বাড়ি ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার থেকে তাদের কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। তবে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন:

গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘর মেরামত করে দিচ্ছে প্রশাসন

রংপুরে 'ধর্ম অবমাননারঅভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার১৫ বাড়িতে ভাঙচুর