“যদি আলোচনা-সতর্কতায় কাজ না হয়, যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সরকার অবশ্যই হার্ডলাইনে যাবে।”
Published : 02 Apr 2025, 02:04 PM
বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে বলতে চাচ্ছে- নতুন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা চলে যাবার কারণে দেশে চরমপন্থা-উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি- এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।”
বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভূমিকা রাখতে পারি।
“যদি আলোচনা-সতর্কতায় কাজ না হয়, যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সরকার অবশ্যই হার্ডলাইনে যাবে।”
বুধবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনে নিহত মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশে উগ্রপন্থিদের চোখ রাঙানোর কথা তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরাবিষ্কার করছে, সূচনা দেখছে ইসলামি উগ্রপন্থিরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমসে।
পরে প্রকাশিত নিবন্ধের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে প্রতিবেদনটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘অতি সরলিকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
আরও পড়ুন
'উগ্রপন্থিদের' নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধ, 'বিভ্রান্তিকর' বলছে সরকার
বাংলাদেশের জনগণ শহীদের চেতনা ধারণ করে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “আমরা চেষ্টা করবো, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার কাজ শেষ করে যেতে পারি। শহীদদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ সরকারের চেষ্টা আছে। জনগণ এটার সাথে আছে “
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি এ চেতনার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা প্রকাশ করলে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করবো।”
গণমাধ্যমের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যতদিন আছি আমরা চাইব গণমাধ্যমের একটি গুণগত সংস্কারের জন্য। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনায় মফস্বল ও কেন্দ্র নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান ও সদস্য সচিব রাশেদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।