Published : 06 Jan 2026, 08:57 PM
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কয়েকদিন আগে নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিয়েছেন এবং দলটি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীও হয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এ প্রবীণ নেতা কেন দল ছেড়েছেন তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজেই। বলেছেন, মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘বিএনপির বিদ্রোহী’ বলে পরিচিতি পাওয়ার চেয়ে ভিন্ন দলে যোগ দেওয়া তার কাছে শ্রেয় মনে হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মোহাম্মদ আলী।
তিনি ১৯৯৬ সালে (ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যদিও বিএনপির ওই সরকার বেশি দিন টেকেনি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলটি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কিন্তু বিএনপি আসনটিতে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলীর বিএনপিতে কোনো পদ না থাকলেও প্রভাব ছিল। রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কিং মেকার’ বলে পরিচিত। ফলে, তার রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেওয়া এবং ওই দল থেকে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
২৭ ডিসেম্বর তিনি রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন এবং পরদিন তাকে দলটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বসানো হয়। তবে, বিষয়টি প্রকাশ পায় ২৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর।
এ নিয়ে মোহাম্মদ আলী পরদিন সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়।
ফলে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাকে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমার নেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে আমাকে এমপি বানিয়েছিলেন। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি; সেক্ষেত্রে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি বিএনপির মনোনয়নের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘বিদ্রোহী’ হতে পারব না।”
নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জকে ‘মডেল শহরে’ রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে এ সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, “রাষ্ট্র, উন্নয়ন ও ক্ষমতা জনগণের। সবার উপরে দেশ, আসুন আমরা সবাই মিলে নারায়ণগঞ্জকে ভালোবাসি, মানুষকে ভালোবাসি, দেশকে ভালোবাসি।”
আসনটিতে মোহাম্মদ আলী ছাড়াও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. শাহ্ আলম প্রার্থী হয়েছেন। জোটের প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় এ দুই বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করেছে দল। বহিষ্কারের আগ পর্যন্ত দুজনই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
এই আসনে মোহাম্মদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি-জোটের প্রার্থী মুফতি হোসাইন কাসেমী ছাড়াও পাচ্ছেন গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকেও। তাকে সমর্থন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ইসলামিক ও সমমনা ১১ দলের নির্বাচনি জোটও। জামায়াতে ইসলামী আল আমিনকে সমর্থন দিয়ে তাদের প্রার্থীকে এরই মধ্যে সরিয়েও নিয়েছে।
তবে, কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে চান না মোহাম্মদ আলী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনারা সবাই আমাকে চেনেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার এই সাতটি ইউনিয়নে যে বিচরণ ছিল, বিগত দিনে সবার সঙ্গে মিলেমিশে আমি কাজ করেছি। কোনো এলাকা নাই, উন্নয়নের নজির নাই। সাতটা ইউনিয়নেই আমি কম-বেশি কাজ করেছি। উদাহরণ জানতে চান, সেটা আমি দিতে পারব। মানুষ আমাকে ভালোবাসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।”
সাধারণ মানুষের সমর্থনের মধ্য দিয়ে আসনটিতে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রথম কাজ হবে- ফতুল্লার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ।
“আর আমার সাতটি ইউনিয়নে কোনো সন্ত্রাস ও মাদকাসক্ত থাকবে না, কথা দিচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আবু হানিফ হৃদয়, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদ হোসেন।
তাদের মধ্যে আবু হানিফ হৃদয় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে দলটির সংসদ সদস্য প্রার্থী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে তিনি তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।