Published : 26 Nov 2025, 11:29 AM
দেড় বছর আগে হস্তান্তর করা হলেও এখনও চালু হয়নি নাটোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম। সেখানে এখন বসবাস করছে মানুষ, চলছে শাক-সবজি চাষ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুন নাটোর শহরের কান্দিভিটা এলাকায় নির্মিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের পাঁচ তলা একাডেমিক ভবন ও শিক্ষার্থীদের হোস্টেল হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ভবন নাটোর সদর হাসপাতালের তিন জন সিনিয়র নার্সের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এরপর আর খোলা হয়নি। ভবন দুটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় একদিকে ভবন দুটিতে ধুলো জমেছে; অন্যদিকে খসে পড়ছে রঙের আস্তরণ।
প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় জেলার শিক্ষার্থীরা নার্সিংয়ে পড়তে অন্য জেলায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্বাস্থ্যখাতের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় অধ্যক্ষ ও স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা ‘অব্যাহত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন।
কান্দিভিটা এলাকার দুধ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বানায় দিয়ে যাওয়ার পরে এখানে শুধু দুই জন থাকে আর বিল্ডিংগুলো এভাবেই পড়ে আছে। যারা থাকে তারাই এখানে শাকসবজি চাষ করে; হাঁস-মুরগি পালে।
“তারাতো আবাদ করি খাওয়া লাগবি, তাই তারা পালিচ্চে। সুরকারই তাকায় দেকিচ্চে না, আর কে কি বোলবি।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা নাহিদ ইসলাম বলছিলেন, “আমাদের নাটোরে নার্সিং হোম ইনস্টিটিউ এটাই প্রথম। এটা চালু হয়ে গেলে অনেক শিক্ষার্থীর সুবিধা হবে, এলাকাবাসীরও কর্মসংস্থান হবে।
“আর এভাবে বিল্ডিং পড়ে থাকলেতো ছাতা ধরে নষ্ট হয়ে যাবে। যেগুলো অর্ধেক কাজ হয়েছে সেগুলো বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে।”

রাজিয়া খাতুন বলেন, “জিনিসটা যেহেতু বানাইছে চালু করা উচিত। তাইলে সবাই সুযোগ সুবিধা পায়। নার্সেরা টেনিং দিতে পারবি, চিকিৎসা করতে পারবি। এভাবে পড়ে থাকলেতো যে যার মতো ব্যবহার করবিই, আবর্জনা-জঙ্গলে ভরি যাবি।
“আর সামনেইতো মেডিকেল, এখানে শিখতে পারলেতো হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগ একটু কমে।”
তবে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় নার্সিং ইনস্টিটিউট চালুর প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে নাটোর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “প্রথম ফেজের কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় সেকেন্ড ফেজের কাজটা থেমে আছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রত কাজটা শেষ করে হস্তান্তর করতে পারবো।”
নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফি বলেন, “নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনটি হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের কাজটি বন্ধ আছে। আশা করছি পরবর্তী অর্থবছরে এটি যুক্ত হবে এবং কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

“পরবর্তী শিক্ষা বছরে এখানে কাজ শেষে নার্সিংয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি নেওয়া হবে এবং অন্যান্য কার্যক্রমও শুরু হবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা জানতে পেরেছি।”
এই নার্সিং ইনস্টিটিউটটি চালু হলে তিন ব্যাচে প্রতি বছর ২২৫ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে বলে জানান সিভিল সার্জন।