Published : 24 Dec 2025, 01:15 PM
কাগজে-কলমে কুড়িগ্রাম জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরা শিশিরে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এই শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কনকনে ঠান্ডার দাপাটে তারা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছেন। দেখা দিয়েছে শীতবস্ত্রের সংকট।
এর মধ্যে বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
তিনি আরও বলেন, এদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এরকম আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকার সম্ভাবনা আছে।
এছাড়া ডিসেম্বরের শেষদিকে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কাও জানান তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক এর জেলা কমিটির সভাপতি খাইরুল আনম বলেন, জেলার ৯ উপজেলায় বিস্তৃত ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করা এ চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ যেন কয়েক গুণ বেশি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী দইখাওয়ার চর, রাউলিয়া, কালির আলগা, গোয়ালপুরী, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চরগুজিমারি– দাগারকুটি, চিলমারীর কড়াই বরিশাল ও মনতলার চর, শাখাহাতির চর, রৌমারীর শৌলমারি ইউনিয়নের ঘুঘুমারি ও সুখের বাতি, রাজিবপুর উপজেলার বড়বের ভেলামারি এবং রাজারহাটের তিস্তা তীরবর্তী চর বিদ্যানন্দ, ধরলা নদীর তীরবর্তী গোরক মন্ডল, ধনী রাম ও জগমোহনের চরসহ নানা দুর্গম চরে শীতের তীব্রতা জনজীবনকে কার্যত অচল করে তুলেছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ উপজেলায় ৫৪ লাখ টাকার কম্বল কিনে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তবে দুর্গম চরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের হাতে এখনো সরকারি শীতবস্ত্র পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, “আমার ইউনিয়নের বিশাল এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝে। এখানকার হাজার হাজার মানুষ চলতি শীতে গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো কম্বল পৌঁছেনি চরবাসীদের জন্য।”
যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, তার ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। এর মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বসবাস করেন। ইউনিয়নে প্রায় ২০টি চর রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ শীতের চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
শীতার্ত মানুষদের নিয়ে তিনি মহাবিপাকে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।”

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশেষ করে এই শীতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে।”
তিনি জানান, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন সীমান্তঘেঁষা কালির আলগা চরের ২০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে দ্রুত কম্বল বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, “শীত যত বাড়ছে, ততই অসহায় হয়ে পড়ছে কুড়িগ্রামের চরবাসী। এখন তাদের একমাত্র আশা—দ্রুত ও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সহায়তা।”