৬ ঘণ্টা পর সিলেট নগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ
কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে পানি সরিয়ে সিলেট নগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও সুনামগঞ্জ জেলা এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়; পানি সেচে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপকেন্দ্রটি ফের চালু করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত উপকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর আমরা চেষ্টা করে, পানি সেচে সিলেট মহানগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি।”
এ গ্রিড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল।
সিলেটের কুমারগাঁও পাওয়ারগ্রিড স্টেশন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক ঘন্টা বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। ছবি: রুদ্র রুদ্রাক্ষ
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় এ গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বেশকটি উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে ছিল। তখন পানি সেচে সিলেট নগরীর কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে এটা সিলেটে তৃতীয় দফা বন্যা। ভারতের মেঘালয় ও আসামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে এবার পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের হিসাবে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৩৫ লাখের মতো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সিলেটের কুমারগাঁও পাওয়ারগ্রিড স্টেশন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক ঘন্টা বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। ছবি: রুদ্র রুদ্রাক্ষ
“বন্যায় অনাহারে থাকা লোকজন এখন কেবল প্রাণে বাঁচতে চান। কিন্তু একটি নৌকা মেলানো তাদের কাছে এখন সোনার হরিণ।”
পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মাঠে নেমেছে। বানভাসি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলেও সেখানে মুড়ি ছাড়া খাবার ও পানি জুটছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সিলেট নগরীসহ ১৩ উপজেলায় মোট ১০ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি বলে জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
দুর্যোগপূণ আবহাওয়ায় নেই মোবাইলের নেটওয়ার্কও। পানিবন্দি জীবনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বহু গুণ।
আরও পড়ুন:
