Published : 03 Apr 2016, 06:10 PM
মিজানুর রহমান সোহাগ (২০) নামের ওই যুবককে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাশের বুড়িচং উপজেলার নারায়ণসার গ্রামে বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
তবে র্যাব কিংবা পুলিশ কেউই সোহাগ নামে কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা আটকের কথা স্বীকার করেনি।
গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে বাসার কয়েকশ গজের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়ার এক সপ্তাহ পর ২৭ মার্চ সোহাগকে ধরে নেওয়া হয় বলে তার বাবা নুরুল ইসলাম জানান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাত দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকের আটজন তাদের বাড়িতে ঢোকে।
“আমি দরজা খুলে দিলে তারা ঘরে ঢুকে প্রথমে আমার মেয়ের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে সোহাগের দুটি মোবাইল নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে সাদা মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়।”
সোহাগের মা শাহিদা বেগম বলেন, “আমরা সাদা পোশাকধারীদের আইডি কার্ড বা পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম; তারা কিছুই জানায়নি।”
‘সোহাগের কিছু হবে না, কাল সকাল ১০টা আবার দিয়ে যাব’- ওই ব্যক্তিরা একথা বলে গিয়েছিল বলে জানান নুরুল ইসলাম।
ছেলের সন্ধানে গত বুধবার (৩০ মার্চ) তিনি বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
সোহাগের বোন খালেদা আক্তার বলেন, তনু হত্যার খবর টিভিতে দেখে তার ভাই আনোয়ারকে ফোন দিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু আনোয়ারের ফোন বন্ধ পেয়েছিলেন।
সোহাগের চাচা আব্দুল বাতেন বলেন, কলেজে পড়ার সময় তনুর ভাই আনোয়ারের সঙ্গে সোহাগের বন্ধুত্ব হয়।
“গত এক বছর যাবত আনোয়ার আমাদের বাড়ি আসে নাই। সোহাগেরও আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই।”
বুড়িচং থানার ওসি উত্তম কুমার বলেন, ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না দাবি করে সোহাগের বাবা সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লা আল মামুন বলেন, পুলিশের কেউ সোহাগ নামে কাউকে আটক করেনি। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
র্যাব-১১ কুমিল্লা ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ এর অধিনায়ক মেজর খুরশিদ আলম বলেন, “আমরা তনুর ঘটনায় সোহাগ নামে কাউকে আটক করিনি।”
ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু খুন হওয়ার পর থেকে প্রতিবাদের ঝড় বইছে সারাদেশে। থানা পুলিশ, ডিবি হয়ে এখন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে সিআইডি। তবে ১৩ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।
এই তরুণীকে খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে লাশ পুনরায় তুলে ময়নাতদন্তও হয়েছে।