Published : 16 Sep 2026, 08:48 PM
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রিয়া সরেন নামে এক সাঁওতাল কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরিবার অভিযোগ করেছে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড।
আগে অপমৃত্যুর মামলা হলেও বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জ থানায় পুনরায় হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রিয়ার নানা বাবুরাম মুরমু।
তবে রূপগঞ্জ থানার ওসি এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, প্রাথমিক আলামত দেখে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
“ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিয়া সরেনের (১৪) বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। সে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করত।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রায় দুই বছর আগে মা রিবিকা মুরমুর সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ওঠে রিয়া। দুই মাস আগে তার মা দিনাজপুরে ফিরে গেলেও রিয়া ওই বাসায় থেকে যান। বাসার কাছেই একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন তিনি। একই কারখানায় তার মাও কাজ করেছেন।
রিয়ার নানা বাবুরাম মুরমু বলেন, “৭ সেপ্টেম্বর বাড়িওয়ালি তানিয়া জানান, রিয়া স্ট্রোক করেছে। পরদিন এসে পুলিশ ও বাড়িওয়ালির মুখে আত্মহত্যার কথা শুনি। বাড়িওয়ালির ‘স্ট্রোক’ এবং পুলিশের ‘আত্মহত্যা’ বলায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
“গলায় কালো দাগ ও কানের দিকে রক্ত ছিল। আমাদের সন্দেহ এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু থানায় এসে হত্যা মামলা দিতে চাইলে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না।”
বাবুরাম বলেন, “মৃত্যুর আগের রাতেও আমাগো লগে ফোনে কথা হইছে। এমন কিছু তো ঘটে নাই যে, সে ফাঁস দিবো। উল্টো বাড়িওয়ালি তারে বিদেশ পাঠাইবো নাকি কইছে, ওই জন্য পাসপোর্টও করতে দিছে কইছিল। কিন্তু পরদিনই শুনি সে মারা গেছে।”
এ ঘটনায় বাড়িওয়ালি তানিয়া ও তার স্বামী জুয়েলকে সন্দেহ করছেন বলে জানান বাবুরাম।
তবে বাড়ির মালিক তানিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুই বছর ধরে তারা এইখানে থাকে। মা আরেকজনকে বিয়ে করে চলে যাওয়ার পরও মেয়েটারে আমি নিজের মেয়ের মতো করে দেখছি। রিয়ার কোনো আত্মীয় নাকি তারে বিদেশে পাঠাইবো বলছিল। আমি ওই বিষয়ে কিছু জানি না। আর রিয়ার এক বান্ধবী তারে খুঁজে আইসা প্রথমে লাশ ঝুলতে দেখে।”
তানিয়া নিজেও ওই কারখানায় চাকরি করেন এবং রিয়াকে সেখানে চাকরি নিতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানান।
রিয়ার পরিবারের সঙ্গে দিনাজপুর থেকে রূপগঞ্জে আসা ‘আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমবায় সমিতি’র সভাপতি মিকায়েল টুডু বলেন, “রিয়ার গলায় কালো দাগ ও কানের ওইদিকেও রক্ত ছিল। মূলত মৃত্যুর বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পরিবারটির মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। কিন্তু তারা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ হত্যা মামলা নিচ্ছে না।”
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন রূপগঞ্জ থানার এসআই নাহিদ মাসুম।
পরিবারের সদস্যরা রিয়ার বয়স ১৪ জানালেও সুরতহাল প্রতিবেদনে ২০ লেখা হয়েছে।
এসআই নাহিদ মাসুম বলেন, “প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী, বিষয়টি আত্মহত্যা বলে বিবেচিত হওয়ায় তখন অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। যদিও আত্মহত্যার পেছনের কারণ পরিষ্কার নয়। পাশেই তার খালা বিউটি মুরমু থাকতেন। তিনিই বাদী হয়েছেন এবং তারা না চাইলেও ভবিষ্যৎ তদন্তের জন্য আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই।”