Published : 25 Mar 2026, 09:19 PM
জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় আলোর মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বুধবার সন্ধ্যায় মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে বিকাল ৫টায় গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, গণসংগীত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে ইতিহাস ও ত্যাগের স্মৃতি যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে চিহ্নিত নয় বা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। অনেক জায়গা দখল, অবহেলা কিংবা অজ্ঞতার কারণে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এসব স্থান শুধু অতীতের স্মৃতি নয় বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মনে করেন জহুরুল কাইয়ুম।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মিহির ঘোষ বলেন, ২৫ মার্চের কালরাত বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের অধ্যায়। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা কেবল একটি জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়নি, রেখে গেছে অসংখ্য বধ্যভূমি ও গণকবর; যা আজও নৃশংসতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের বহু বধ্যভূমি-গণকবর এখনো অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই এসব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এখন শুধু সময়ের দাবি নয় বরং এক অনিবার্য জাতীয় দায়বদ্ধতা।
বক্তব্যের শেষে তিনি গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানান।
সভায় রাজনীতিবিদ ওয়াজিউর রহমান রাফেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক শাহজাদা ও ওয়াশিকার ইকবাল মাজু, গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বাবু, প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, নারীনেত্রী সাংবাদিক রিক্তু প্রসাদ, শহীদ পরিবারের সদস্য প্রবীর চক্রবর্তী এবং সংগঠক মুরাদজ্জামান রব্বানী বক্তব্য দেন।