Published : 25 May 2026, 01:18 PM
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ভোলার কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে জমজমাট কেনাবেচা। দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা গরু, মহিষ ও ছাগলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকায় খামারিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ও মোটাতাজাকরণমুক্ত পশু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারাও। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন বাজারগুলোতে। দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি।
পছন্দের পশু কিনতে এক হাট থেকে আরেক হাটে ঘুরে দাম যাচাই করছেন ক্রেতারা।
ভোলা সদরের ইলিশার হাট, পরানগঞ্জ, গজারিয়া, ঘুইংগারহাট, ভেলুমিয়ারহাট, ব্যাংকেরহাট, বাংলাবাজার, চরফ্যাশন, লালমোহন ও বোরহানউদ্দিনের পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে- ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরুর পাশাপাশি দেশি জাতের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
খামারিদের ভাষ্য, এ বছর পশুর খাবার ও পরিচর্যার খরচ বেড়েছে। তাই তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশা করছেন।
ভোলা সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খামারি মো. আলী বলছেন, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে কোরবানির পশু পালন ও বিক্রি করছেন। এবারও বিক্রির জন্য বেশ কয়েকটি গরু প্রস্তুত করেছেন।
তিনি বলেন, “এবার খাবারের দাম বেশি ছিল। তাই ভালো দামের আশা করছি। ভালো দাম পেলে ধারদেনা করে গরু পালনের যে ঋণ হয়েছে, তা পরিশোধ করতে পারব।”
কাউসার নামে গজারিয়া বাজারের গরু বিক্রেতা বলেন, “গরু কিনে পরিচর্যা করে আমার প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হইছে। কিছু বাড়তি লাভ পেলে বিক্রি করে দিমু।”
মো. কামাল চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বলেন, তারা স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা পশু কিনতে আগ্রহী। বাজারে অতিরিক্ত দাম চাওয়া হলেও দরদাম করে অনেকে পশু কিনছেন।
তিনি বলেন, “আমরাও কেনার অপেক্ষায় আছি। পছন্দের গরু কিনতে এক হাট থেকে আরেক হাটে ঘুরছি। দামের মধ্যে পেলে কিনে ফেলবো।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, কোরবানির চাহিদা পূরণে জেলায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাজারগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে কাজ করা হচ্ছে।
“ভোলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৮১ হাজার ১৮০টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার পশু। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৬৫ হাজার ২৭১টি। জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাতেও পশু বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।”
পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে অর্ধশত হাটকে কেন্দ্র করে ৪৯টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।