Published : 08 Jul 2026, 07:26 PM
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়ার ১৩ বছর পর এক শিশু আদালতের রায়ে তার বাবার পরিচয় পেয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিকে শিশুটির বাবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার বিকালে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমদাদুল হক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. নুরুল কবীর রুবেল।
মামলার বরাতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে উপজেলার একটি গ্রামে নিজ বসতঘরে ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
পরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামি ধর্ষণের ঘটনা ও সন্তানের পরিচয় অস্বীকার করেন।
পরে এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ জুলাই ভুক্তভোগীর এক বোন বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় মামলা করেন বলে জানান পিপি রুবেল।
তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ অক্টোবর পুলিশ একজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে জানান তিনি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রুবেল।
তিনি বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির বাবার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুটি আসামির আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। সেইসঙ্গে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিসহ অন্যান্য আইনি অধিকারের দাবিদার হবেন।”