Published : 16 Jul 2025, 03:58 PM
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় বাস থামিয়ে এক যাত্রীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ২টায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়নগর গ্রামের প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩৩) এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল আহাম্মদের ছেলে জাহিদুল ইসলাম হৃদয় (২৬)।
হামলার শিকার হওয়া মো. তারিকুল ইসলাম (৩১) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ভরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকার বাড্ডায় থাকেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিতে সোমবার রাতে তিনি নোয়াখালী আসছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহীম বলেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে লাল সবুজ পরিবহনের বাসটি সোনাইমুড়ী রেলক্রসিংয়ের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক গতিরোধ করে। পরে তারা বাসে উঠে যাত্রী তারিকুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তারিকুলকে হেলমেট দিয়ে একজন আঘাত করছে। এ সময় কয়েকজন মিলে তাকে কিলঘুষি মারতে ও টানা হেঁচড়া করতেও দেখা যায়।
হামলাকারীরা তারিকুলকে বাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কে এক পুলিশ সদস্য তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তারিকুলের বড় ভাই মাহফুজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, মামলার পর ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় বাসের ভিতরে হেলমেট দিয়ে আঘাতকারী আরিফুল ইসলামকে সনাক্ত করে পুলিশ।
রাতেই অভিযান চালিয়ে আরিফুলকে এবং জাহিদুল নামে অপর একজনকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তার দুইজনকে সুধারাম মডেল থানায় রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহীম।