০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিকে ক্ষতিকর ‘অ্যাসবেস্টস’, ব্যবস্থার সুপারিশ

বিসিক এলাকা পরিদর্শন করে হতভম্ব হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিকে ক্ষতিকর ‘অ্যাসবেস্টস’, ব্যবস্থার সুপারিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Published : 06 Apr 2023, 12:28 AM

Updated : 06 Apr 2023, 12:27 AM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিসিকে মানবদেহের ক্ষতিকর ‘অ্যাসবেস্টস’ পাওয়া গেছে জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী।  

বুধবার সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তিতাস নদী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

অ্যাসবেস্টস হলো প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ছয় সিলিকেট খনিজের একটি সেট যা তার সুবিধাজনক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যর কারণে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়। রেশম ও পশমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই খনিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল দেখা যায়।

অ্যাসবেস্টস আঁশ দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে গেলে ফুসফুসের ক্যান্সার, অ্যাসবেসটোসিস-এর মতো গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে।

Image

ক্যাপশন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাসবেস্টসের সকল প্রকার নিষ্কাশন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসির সম্মেলন কক্ষে জেলা নদী রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় তিনি বলেন, “বিসিকে গিয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। জলমগ্ন এলাকা বিসিকের ভেতরটা; বাইরে প্রায় এক হাজার বিঘার মতো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিষাক্ত পানিতে। তাদের কাগজপত্র সম্পর্কে আমি জিজ্ঞেস করেছি এবং জল নিষ্কাশনে তাদের কী পরিকল্পনা আছে তা জানতে চাই। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে তারা। সেখানে ৯ বিঘার মতো বিশাল একটি পুকুরকে তারা সম্পূর্ণভাবে বিষাক্ত করে ফেলেছে।”

তিনি বলেন, “আমি সেখানে অ্যাসবেস্টস পেয়েছি। তা আমি ছুঁয়ে দেখিনি এবং কাউকে ছুঁতেও দেইনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকও দেখেছেন। অ্যাসবেস্টস একটি ভয়ংকর পদার্থ। তারা এই অ্যাসবেস্টস পাচ্ছে কোথায়? শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এগুলো ব্যবহার করা হয়। শিপ ব্রেকিংয়ের কাজে এগুলোকে প্রক্রিয়া করতে হয়; যাতে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই আমি মনে করি, এগুলো এখানে প্রক্রিয়াকরণ করতে নিয়ে আসা হয়েছে।”

অ্যাসবেস্টসের বিষয়ে অডিট করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে যেখানে অ্যাসবেস্টস পাওয়া যাবে, তা লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে। সেখানে থাকা লোকজনকে সরিয়ে ফেলতে হবে। কারণ অ্যাসবেস্টস হচ্ছে এমন একটা পদার্থ যা মানবদেহের ফুসফুসে ক্যানসার সৃষ্টি করে।”

অ্যাসবেস্টস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কাজ করতে ডিসিকে পরামর্শ দিয়ে মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “তাদের জেলে ছাড়া কোথাও দেখতে চাই না।”

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসির সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের বিশেষ সভা।

তিনি আরও বলেন, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ আর অদ্বৈত মল্লবর্মনের জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস যেভাবে দখল দূষণের শিকার হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না।

“যারাই নদী দূষণের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের শুধু জরিমানাই নয়, জেলেও পাঠাতে হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি মো. শাহগীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) এইচএম কামরুল ইসলাম, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক পীযূষ কান্তি আচার্য ও শামীম আহমেদ বক্তব্য দেন।