বনানীতে শুরু হচ্ছে চিত্রপ্রদর্শনী ‘নদীলিপি’
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে।
নদী আর মানুষের ভেতরের অবচেতন সম্পর্কের গল্প নিয়ে রাজধানীতে শুরু যাচ্ছে চিত্রশিল্পী রাশিদ খানের একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘নদীলিপি: দ্য রিভার স্ক্রিপ্ট’।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ প্রদর্শনী প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
প্রদর্শনী শুরুর আগের দিন বুধবার বিকালে বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে আয়োজিত হয় এক বিশেষ প্রাক-প্রদর্শনী বা প্রিভিউ সন্ধ্যা। যেখানে গ্যালারিতে ঢুকলেই চোখে পড়বে ছাদ থেকে নেমে আসা বিশাল তামাটে রঙের জাল। জালের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ঢেউ খেলানো ফিরোজা জলের ক্যানভাস, পাশেই সাদা-কালো আঁচড়ে আঁকা খরস্রোতা নদীর বিস্তার। কোথাও দেয়ালে ঝোলানো বাঁশের তৈরি মাছ ধরার সরঞ্জাম, কোথাও হাতে তৈরি কাগজে ছোট ছোট ছবির সঙ্গে লেখা শব্দ। নীল, হলুদ এনং মাটির রঙে আঁকা হয়েছে ছবিগুলো।
প্রিভিউ সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, সামিয়া আফরিন, কাকলী প্রধান, কবি আলফ্রেড খোকন, সংগীতা খান, ঐশ্বর্য রোদ্ধী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এ বি এম নাজমুল হুদা, স্থপতি ইশতিয়াক জহির তিতাস, মমিনুল ইসলাম, সাব্বির রহমান তানিম ও প্রযোজক হাফিজউদ্দীন মুন্নাসহ আরও অনেকে।
প্রদর্শনী ঘুরে চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, "এক কথায় প্রদর্শনীটি চমৎকার। রাশিদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং কাজের প্রতি ওর যে বলিষ্ঠতা ও দক্ষতা, তা ছবিগুলোতে স্পষ্ট। নদীলিপি নামটি ভীষণ অর্থবহ। নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সে এখন নিজের একটি নির্দিষ্ট ধারা খুঁজে পাওয়ার পর্যায়ে এসেছে। ছবির পরিবেশনাতেও অভিনবত্ব রয়েছে।"
অভিনেত্রী সোহানা সাবা বলেন, “রাশিদের শিল্পকর্মগুলো আমি সবসময়ই খুব পছন্দ করি। সেই জায়গা থেকেই ওর কাজের মূল ভাবনা বা থিমটা আমার ভালো লেগেছে। আসলে আমাদের তো নদীমাতৃক দেশ; এখানে বৃষ্টি, নদী, মাটি এসবের নাম শুনলেই মনের ভেতরে কেমন যেন একটা ভালোলাগা কাজ করে। প্রদর্শনীতে প্রবেশ করার পর মনে হয়েছে যেন সত্যিই নদীর ভেতরে ঢুকে পড়েছি।”
আয়োজকেরা বলছেন, এই প্রদর্শনীতে শুধু ছবি দেখাই নয়, প্রদর্শনী চলাকালে নদীকে ঘিরে থাকবে সুর, গান, সাহিত্য ও গল্পের বিশেষ আয়োজন। বিভিন্ন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে- 'নদী কথা', 'নদী গান', 'নদী সাহিত্য', 'নদী গল্প', 'নদী সুর', 'নদী পাঠ' ও 'নদীলিপি' শিরোনামের আড্ডা ও আয়োজন।
এ ছাড়া আগামী ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টায় জাভেদ জলিলের পরিচালনায় 'আর্ট ইন এভরিডে লাইফ' শীর্ষক বিশেষ একটি শিল্পকলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
এই প্রদর্শনী ও নিজের ছবির উৎস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিল্পী রাশিদ খান ফিরে যান শৈশবের পানগুছি নদীতে। তিনি বলেন, "আমাদের সবার সঙ্গেই নদীর সম্পর্কটা শৈশব, কৈশোর কিংবা যৌবনের স্মৃতি জুড়ে বিস্তৃত। আমার ছোটবেলায় নানিবাড়ি থেকে দাদিবাড়ি যাওয়ার সময় পানগুছি নদীতে প্রায় দুই ঘণ্টা কাটাতে হত। নদীর ওপর আশেপাশের প্রকৃতির ও আকাশের যে প্রতিফলন দেখা যেত, সেই স্মৃতি আজও আমার মনে গেঁথে আছে।
“আমরা নদী বলতে সাধারণত নীল রঙকে বুঝি, কিন্তু নদী তো আসলে পলিমাটি মিশ্রিত বাদামি রঙের পানি। অথচ এই পানির ওপর যে প্রতিফলনটা আমরা দেখি, তা মূলত আমাদের জীবনেরই প্রতিফলন। প্রদর্শনীতে ছবিগুলোর মাধ্যমে আমি নদীকে একটি সামগ্রিক কোণ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যেন সবার জীবনবোধ ও অভিজ্ঞতার এক ধরনের প্রতিফলন এখানে খুঁজে পাওয়া যায়।”
দেশে শিল্পচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাশিদ খান বলেন, “আমাদের দেশের এই প্রদর্শনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো উচিত। উন্নত দেশগুলোর মত এখানেও গ্যালারি, মিউজিয়াম বা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার এগিয়ে আসা উচিত। এই ধরনের এক্সপ্রেশন বা উদ্যোগ যত বেশি আসবে, আমাদের শিল্প ও শিল্পীদের সম্ভাবনা ততটাই সামনে এগিয়ে যাবে।"
পুরো আয়োজনের কিউরেটোরিয়াল অনুসন্ধান ও লেখায় যুক্ত রয়েছেন শিল্পী ও শিল্পলেখক জাভেদ জলিল। তিনি বলেন, “এই আয়োজনটি নদীর সঙ্গে মানুষের ভেতরের সংযোগ খুঁজে বের করার একটি প্রচেষ্টা। ছবি, শব্দ ও সাউন্ডের সমন্বয়ে অনুভূতির জায়গাগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, যা দর্শকদের নিজেদের অন্তরের ভাবনার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে।”
