Published : 15 May 2026, 11:35 AM
কোরবানির পশুর বাজারে প্রতি বছরই দেখা যায় নানা বৈচিত্র্য। তবে নারায়ণগঞ্জে এবারের চিত্রটা যেন একটু ভিন্ন। বিশাল আকৃতির গরু বা দামি ছাগল নয়, মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক মহিষ।
ধবধবে সাদা গায়ে গোলাপি আভা, আর মাথার সামনে ঘন লম্বা চুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্য থাকায় পশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডনাল্ড ট্রাম্প’। অদ্ভুত নাম আর চেহারার ব্যতিক্রম- দুইয়ে মিলেই মহিষটি এখন কোরবানির বাজারের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
যদিও নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে‘ কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুটি এখন আর হাটে উঠবে না। কারণ এর মধ্যেই ঢাকার একজন বাসিন্দা মহিষটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। তবে পশুটি এখনো খামারেই রয়েছে ।

সেখানে গেলেই চোখে পড়ে মহিষটি দেখতে আশেপাশের মানুষের ভিড়। অন্য পশুগুলোর দিকে তেমন নজর না দিয়ে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এই এক মহিষকে ঘিরেই। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কাছে গিয়ে স্পর্শ করে দেখার চেষ্টা করছেন। সেসব ছবি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আগ্রহ যেন কয়েক গুণ বেড়ে চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “অনলাইনে দেখে আগ্রহ হয়েছিল। সামনে থেকে দেখে মনে হলো, সত্যিই আলাদা কিছু। বিশেষ করে মাথার চুল আর চোখের কারণে নামটা একেবারে মানিয়ে গেছে।”
খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, “মাথার সামনের চুলের স্টাইল দেখে আমার ছোট ভাই মজা করে এর নাম দেয় ‘ডনাল্ড ট্রাম্প’। এরপর থেকেই নামটি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ কৌতূহলবশত দেখতে আসতে শুরু করে।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনায় আসার আগেই প্রায় সাড়ে তিন বছর বয়সী মহিষটি বিক্রি হয়ে গেছে। এটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। ঢাকার এক ক্রেতা লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মোট প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় এটি কিনেছেন।
কোরবানি ঈদের আগে পশুটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মহিষটি এলবিনো প্রজাতির হওয়ায় শরীরে মেলানিনের ঘাটতির কারণে এমন সাদা-গোলাপি রঙের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, “এটি কোনো বিরল প্রজাতি নয়। এলবিনো হওয়ার কারণে এমন রঙ হয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে।”

খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, “মহিষটিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রয়েছে ভুট্টা, সয়াবিন, খৈল, গমের ভুসি, তিলের খৈল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যার মাধ্যমে মহিষটিকে সুস্থ রাখা হয়।”
খামারের কর্তৃপক্ষ জানায় এবারের কোরবানির জন্য ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই এর মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
তবে দর্শনার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই এক মহিষই।
খামার মালিক জিয়া উদ্দিনের ভাষায়, “আগে কোরবানির সময় মানুষ একে অপরের বাড়িতে গিয়ে পশু দেখত, একটা উৎসবের আবহ থাকত। এখন সেটা কমে গেছে। তবে এই মহিষটিকে ঘিরে আবার সেই আনন্দ কিছুটা ফিরে এসেছে।”