Published : 23 Apr 2026, 12:35 PM
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা এক তরুণের ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না পেয়ে তাকে ‘চপেটাঘাত’ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে।
বুধবার বিকালে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনও গায়ে হাত তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে মারতে দেখা যায়।
১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনের লাইনে থাকা এক তরুণের কলার চেপে ধরেছেন ইউএনও। পরে তরুণের মাথায় কয়েকটি চপেটাঘাত করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তরুণ মোটরসাইকেল থেকে নেমে গেলে আনসার সদস্য সেটি হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী নদী (১৮) স্থানীয় একটি গ্যারেজের কর্মচারী। অসুস্থ এক শিক্ষকের জন্য তেল সংগ্রহ করতে তার ফুয়েল কার্ড ও মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি পাম্পে এসেছিলেন বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগী তরুণ ও স্থানীয়রা জানায়, চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র অসুস্থ থাকায় তার মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয় গ্যারেজ মালিক প্রদীপের সহায়তা চান। প্রদীপ তার কর্মচারী নদীকে ওই শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড ও টাকা দিয়ে ফিলিং স্টেশনে পাঠান।
ভুক্তভোগী নদী বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসেছিলাম। ইউএনও কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, আমি এর বিচার চাই।”
রহিম নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “নদী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তদারকিতে থাকা ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান তার কার্ডটি পরীক্ষা করেন। কার্ডের ছবির সঙ্গে নদীর চেহারার মিল না পেয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তাকে থাপ্পড় মারেন তিনি।”
এই ঘটনায় উপস্থিত জনতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে ইউএনও বিষয়টি পুনরায় যাচাই করেন।
অসুস্থ ওই শিক্ষকের মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ডের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গায়ে হাত তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না এবং নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে ভিডিওতে চপেটাঘাত করতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার কোনো জবাব দেননি তিনি।