১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘনায় ট্রলার ডুবি: মিলল আরও ৩ লাশ

অভিযানের সময় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হলেও এর মধ্যে কোনো লাশ ছিল না।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Mar 2024, 07:41 PM

Updated : 24 Mar 2024, 09:22 PM

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাডুবির ঘটনার নিখোঁজ আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; তাদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভৈরব সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, রোববার বেলা ৩টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হল।

তিনি বলেন, “সকাল থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান শুরুর পর দুই নারী ও এক শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হলেও এর মধ্যে কোনো লাশ ছিল না। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল সোহেল রানার সাত বছর বয়সী মাহমুদা, ভৈরবের রুপা (২০) ও আনিকা (১৯)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ভৈরব ব্রিজের নিচ থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে বেড়াতে বের হন কয়েকজন। ইফতারের আগ মুহূর্তে ট্রলারটি চরসোনারামপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি বালুবোঝাই নৌযানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়।

এরপর রাতেই একজনের এবং শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে নদী থেকে এক নারী ও এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই তিনজনের মধ্যে কনস্টেবল সোহেল রানার মেয়ে মাহমুদা ছিল বলে তখন ভৈরব থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন। তবে রোববার তিনজনের লাশ উদ্ধারের পর জানা গেল, সে তথ্য ভুল ছিল।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এনামুল বলেন, “আসলে একটা দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই সব সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয় না। শনিবার উদ্ধার মৃতদের একজনকে মাহমুদা বলা হলেও পরে জানা যায়, সে আসলে ভৈরবের আমলাপাড়া এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী টুটন দে‘র ১১ বছর বয়সী মেয়ে আরাধ্য।

আরাধ্য ছাড়াও শনিবার যাদের লাশ উদ্ধার হয়েছে, তারা হলেন কনস্টেবল সোহেল রানার স্ত্রী মৌসুমি (২৫) ও ভৈরবের নূর-জাহান।

যারা এখনও নিখোঁজ, তাদের উদ্ধার প্রসঙ্গে এনামুল বলছেন, “মেঘনা নদীতে প্রচুর স্রোত। ফলে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।“

দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে- ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল সোহেল রানা (৩৫) ও তার ছেলে রাইসুল (৫) ও ভৈরব পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বেলন দে (৩৮)।

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

মেঘনায় ট্রলার ডুবিতে নিহত বেড়ে ৩, নিখোঁজ এখনও ৫

পুরানো খবর:

মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবি: জড়িত সন্দেহে ৩ মাঝি আটক, নৌযান জব্দ

পুরানো খবর:

মেঘনায় ট্রলার ডুবি: মৃতদের ২ জন কনস্টেবল সোহেল রানার স্ত্রী-মেয়ে

পুরানো খবর:

মেঘনায় ট্রলার ডুবিতে নিহত বেড়ে ৩, নিখোঁজ এখনও ৫