Published : 10 Oct 2025, 03:12 PM
প্রতি বছরের মতো এ বছরও পঞ্চগড়ে আগেভাগেই শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। দিনে বেশ গরম অনুভূত হলেও ভোরে দেখা মিলছে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতির।
উত্তরে জেলা পঞ্চগড়ে কয়েক দিন ধরেই এমন পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কিন্তু শুক্রবার সকাল ৬টায় তা ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়।
তিনি বলেন, “বর্তমানে মৌসুমী বায়ু নিষ্ক্রিয় হওয়ায় উত্তর দিক থেকে পাহাড়ি হিমশীতল বাতাস বয়ে চলেছে। এজন্য ভোরের দিকে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির জন্য আকাশও মেঘলা থাকছে।”
পঞ্চগড়ের শীতকালীন আবহাওয়া স্থানীয়দের কাছে বেশ সুপরিচিত। প্রতি বছর বর্ষা যেতে না যেতেই আগাম শীতের শীতল হাওয়া এখানকার প্রকৃতিকে সতেজ করে তোলে। এ জেলার নদী, খাল-বিল, পথ-ঘাট, ফসলের মাঠ, গ্রামাঞ্চলের কাঁচাপাকা সড়ক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে এক নতুন রূপ নেয়।

সাধারণত অক্টোবরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই জেলায় শীতের আমেজ শুরু হয়। আর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কনকনে শীত অনুভূত হয়। পরে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে কমতে থাকে শীতের প্রকোপ।
এবার অক্টোবরের শুরুতেই শরতের মেঘলা আকাশ এবং মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাতে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা গেছে।
তবে সকালের পর থেকে রোদের কারণে দিনে বেশ গরম অনুভূত হয়। দিনে ৩০ থেকে ৩২ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তবে রাতে তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় গায়ে হালকা কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সন্ধ্যায় স্থানীয়দের শীতের পোশাক পরার প্রস্তুতি নিতেও দেখা গেছে। বিশেষ করে রাতে এবং ভোরের দিকে মোটরসাইকেল চালকরা গরমকাপড় পরতে শুরু করেছেন। জেলা শহরের লেপ-তোশকের দোকানেও ব্যবসায়ীদের নানা রকম প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোলানীপাড়া গ্রামের ফজলার রহমান বলেন, “ঋতুর হিসেবে শীত আসতে আরও বেশ কিছু সময় দেরি আছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি যেন আগেই শীত নামিয়ে দিল।
“ভোরে ঘুম থেকে উঠলে দেখা যায় চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। কুয়াশার সঙ্গে হালকা বাতাসে শীত অনুভূত হয়। রাতে হালকা কাঁথা নিয়ে ঘুমাতে হয়।”
জেলা শহরের ধাক্কামারা গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, “আমরা করতোয়া নদীর পাশে বসবাস করি। প্রতিদিন ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ দেখি। সকাল ৭-৮টা পর্যন্ত আমাদের চারপাশে বেশ কুয়াশা থাকে। বৃষ্টি হলেই শীত শীত লাগে। তবে দিনে রোদ উঠলে গরম লাগে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “প্রতি বছর গরিব মানুষের কষ্ট হলেও শীত নিয়ে জেলার মানুষের একটা প্রস্তুতি থাকে। এবার বর্ষার পরও থেকে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টির মধ্যে কেমন যেন শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমাতে গেলেও মাঝরাতে ঠিকই কাঁথা নিতে হয়।“
এদিকে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। ঘরে ঘরে সর্দি, জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রতি বছর আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমনিয়াসহ নানান রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিদিন হাসপাতালে অসংখ্য রোগী এমন অসুস্থতা নিয়ে আসছেন।”

এ সময়ে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাসি ও ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সন্ধ্যার পর কাজ ছাড়া বাইরে না থাকাই ভালো। এ সময় সবার মাস্ক পরাও জরুরি বলে জানান এই চিকিৎসক।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “বৃষ্টি না হলে এবং আকাশে মেঘ থাকলেও কুয়াশা দেখা যায়। এজন্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা শীত অনুভূত হচ্ছে।
আকাশের মেঘ কেটে গেলে দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।