Published : 13 Dec 2025, 01:00 PM
শেরপুর সদর উপজেলার এক বাউল গানের আসরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার দুদিন পরও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গণইভরুয়াপাড়া গ্রামে শামীম ড্রাইভারের বাড়ির পাশে সদ্য ধান কাটা ক্ষেতে আয়োজন করা বাউল গানের আসরে এ হামলা হয়।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক গালাগালি করে বাউল গানের আসরের সরঞ্জাম ভাঙচুর করছে। আকস্মিক হামলায় উপস্থিত দর্শকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে গণইভরুয়াপাড়া ও আশেপাশের এলাকার মানুষ বাউল গানের আসরে ভাঙচুরের বিষয়টি জানলেও কারা হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চায়নি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন গানের অনুষ্ঠানের আয়োজক ড্রাইভার শামীম মিয়া।
শনিবার সকালে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি বাউল গানের আয়োজন করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন লোক আইসা এখানে কোনো গান-বাজনা চলবে না বলে ভাঙচুর করেছে। পরে বাউল গান আর হয় নাই।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এ কাজ করছে তাদের সঙ্গে আমি নিরীহ মানুষ পারব না। তাই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর থানার পুলিশকে জানানোর জন্য উদ্যোগ নিলেও পরে আর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি।”
বাউল গানের আসরে উপস্থিত গনইভরুয়াপাড়া গ্রামের মোফজ্জল হোসেন বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে বাউল গান শোনার জন্য সেখানে যাই। কিন্তু গণ্ডগোল শুরু হলে সেখান থেকে দ্রুত চলে আসি। পরে শুনেছি সেখানে গানের হারমোনিয়াম ও বাঁশি ভাঙচুর করা হয়েছে।”
এই এলাকার বুলবুল দোকানদার বলেন, “আমি বাউল গান শোনার জন্য সেখানে যাওয়া উদ্যোগ নিয়েছি, তখনই হট্টগোলের খবর শুনে আর যাই নাই।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সামেদুল ইসলাম, পাশের শেখহাটি এলাকার রবিউল এবং গণইভরুয়াপাড়ার পল্লী দন্ত চিকিৎসক আসাদ আলীসহ অনেকেই বলেন, বাউল গানের আসরে তারা যান যাই। তবে সেখানে গণ্ডগোল এবং হারমোনিয়াম ও বাঁশিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে ফেলার কথা তারা শুনেছেন।
এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে অতিথি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের জেরেও এ হামলা ঘটতে পারে বলে ধারণার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন।
জানতে চাইলে শেরপুর সদর থানার নবাগত ওসি সোহেল রানা বলেন, “এ ধরণের কোনো সংবাদ পুলিশের কাছে আসেনি। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগও কেউ করেনি।”
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাউল গানের অনুষ্ঠানে হামলার সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি উল্লেখ করে জেলার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি।”