Published : 14 Jun 2026, 11:53 PM
ভূমি সমস্যায় জর্জরিত পটুয়াখালীর রাখাইনদের জায়গা-জমি পরিদর্শন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের একটি প্রতিনিধিদল।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেখানকার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার ও নয়াপাড়া শশ্মানের বেদখল হওয়া জায়গা এবং পায়রা বন্দর জন্য উচ্ছেদ হওয়া ছয়টি পরিবারের পুনর্বাসন জায়গা পরিদর্শন করেন।
পরে তারা কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রতিনিধিদল তাদের অভিজ্ঞতা ও সমাধানের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় তারা বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।
পাশাপাশি বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের আদিবাসী ফোরাম সভাপতি মং চৌথিন তালুকদার পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে- কলাপাড়ায় রাখাইনদের জন্য শশ্মানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া; রাখাইন কালচারাল একাডেমি দ্রুত সংস্কার ও চালু করা। রাখাইন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া; রাখাইনদের বেদখল হওয়া ভূমি, শশ্মান পুনরুদ্ধার ও হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি করা; রাখাইন তাঁতের বিকাশে প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা এবং পায়রা বন্দরের কারণে ছ-আনি পাড়া থেকে উচ্ছেদ হওয়া ছয়টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ঘর তৈরি ও নতুন ভূমির মালিকানা হস্তান্তর করা।

সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটসের পক্ষ থেকে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিনিধিদলে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, রান এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলম, গবেষক ঈশিতা দস্তিদার, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, ল্যান্ড ইজ লাইফ এর এশিয়া প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সতেজ চাকমা ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও ভিক্ষুদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়। এ সময় শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ইন্দ্রবংশ ভিক্ষু বিহারের ভূমির দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ আমলে দুই একর ৪৪ শতাংশ জায়গায় শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারটি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৬২ বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় বিহারের অনেক জায়গা নেওয়া হয়। এরপর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিহারের জমি নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। বর্তমানে বিহারের দখলে জমি রয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। নিজস্ব ভূমি সংরক্ষণ করা না হলে বিহারের ঐতিহ্য হুমকির মধ্যে পড়বে।
ইন্দ্রবংশ ভিক্ষু বলেন, “জেলায় একমাত্র এ বিহারটি সীমা বিহার। এই বিহারেই রয়েছে একমাত্র সীমাঘর। যে সীমাঘরটি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জীবনাচরণ এবং উপসম্পাদনা গ্রহণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাউবো যদি আমাদের বিহারের জায়গাটি নিয়ে নেয় তবে এই সীমাঘরটিও আর থাকবে না। ফলে এটা আমাদের ধর্মীয় জীবনযাপনের জন্যও বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, মিশ্রিপাড়ার প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারটির জায়গা অনেক প্রভাবশালী বাঙালি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিহারের অধ্যক্ষ উত্তমা মহাথেরো বলেন, এই বিহারের জায়গার পরিমাণ দুই একরের বেশি হলেও অনেক জায়গা এখনো রেকর্ডভুক্ত হয়নি।
একইভাবে নয়াপাড়া শশ্মানের জায়গাও বেদখল হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সেখানে এক বাঙালি পরিবার গাছ লাগিয়েছে।
এসব অভিযোগ অবহিত হওয়ার পর কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক বলেন, “রাখাইনদের ভূমি রক্ষায় প্রশাসন আন্তরিক।”